দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার নিজের ভাড়া বাড়িতে ঢুকতে বাধা পেলেন স্বয়ং বিডিও! রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে আরামবাগের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে।
জানা গেছে, ওই এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন গোঘাট এক নম্বর বিডিও সুরশ্রী পাল। গোঘাট এক নম্বর ব্লক অফিসের দু'জন কর্মী ও পঞ্চায়েত সমিতির আরও দু'জন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হন। আর এই খবরের জেরেই আতঙ্ক ছড়ায় আরামবাগ ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে।
বাসিন্দাদের দাবি, বিডিও আগে করোনা পরীক্ষা করান, তারপর এখানে থাকবেন। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় আরামবাগ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। রীতিমতো কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেয় তারা। এই ঘটনায় পুলিশ বাধাদানকারী ন'জনকে আটকও করেছে।
ঘটনাটির কথা সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান নেটিজেনরা। প্রশাসনিক পদে বসে যিনি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, তাঁর প্রতি স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন শত্রুভাবাপন্ন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না বলেই মত দিয়েছেন অনেকে।
আবার একইসঙ্গে খবর পেয়েই পুলিশের পৌঁছে যাওয়া এবং পরিস্থিতির দখল নেওয়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ারও প্রশংসা করেছেন অনেকে।
করোনা আবহের জেরে এই সমস্যা নানা জায়গায় শোনা যাচ্ছে। সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে যাঁরা লড়ছেন, তিনি চিকিৎসক বা নার্স হোন অথবা পুলিশ হোন, কিংবা প্রশাসনিক কোনও কর্মী হোন, স্থানীয়দের রোষের মুখে বা অসহযোগিতার মুখে পড়তে হয়েছে অনেককেই।
দিন কয়েক আগে নবান্নে বৈঠক চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রীও বক্তব্য রেখেছিলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে লড়াই করার জন্য যথেষ্ট সাহায্য মিলছে না স্থানীয়দের তরফে। সেফহাউস করার জন্য কোনও এলাকায় কমিউনিটি সেন্টার দিতে রাজি হচ্ছেন না এলাকাবাসী, জায়গা মিলছে না শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য আলাদা জায়গা ঠিক করতে গিয়েও।
আতঙ্কে হোক বা গুজবে, সর্বত্রই যেন করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ক্রমে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছেন সাধারণ মানুষ। তারই প্রতিফলন এদিন দেখা গেল আরামবাগেও। খোদ বিডিওকেই ঢুকতে বাধা দিলেন স্থানীয়রা। পুলিশের প্রশংসনীয় ভূমিকায় শেষমেশ সমস্যা মিটল।