
শেষ আপডেট: 15 January 2023 13:52
অনেকগুলো গোল গোল চুম্বকের রিং একসঙ্গে করে বানানো বড়সড় এক পাত। তাতে বাঁধা শক্তপোক্ত দড়ি। সেই দড়ির অন্য প্রান্ত ধরে আছে ছোট্ট আসমা। বয়স হবে ৭-৮ বছর। ওই বয়সেই যতটুকু জোর, তাই দিয়ে চুম্বকের ওই চাঁইকে জলের মধ্যে দিয়ে টেনে বেড়াচ্ছে সে। কিছুক্ষণ ছাড়া ছাড়া সে চুম্বক (magnet) ডাঙায় তুলে, তা থেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছে খুচরো পয়সা (money)!
কপিলমুণি মন্দিরের তোরণ চলেফিরে বেড়াচ্ছে মেলার প্রাঙ্গণে! সেলফিও তুলছেন পুণ্যার্থীরা
গঙ্গাসাগর মেলায় (gangasagar mela) এভাবেই জমে উঠেছে এক আশ্চর্য রোজগারের উপায়।

কীভাবে?
পুজো দেওয়ার সময় বহু পুণ্যার্থীই সাগরে ভাসিয়ে দেন খুচরো পয়সা। বেশিরভাগ পয়সাই সাগরে তলিয়ে গেলেও, অনেক পয়সা আবার জোয়ার-ভাঁটায় খেলা করে পাড়ের জলে। সেইসব পয়সাই জোগাড় করার জন্য দিনভর খেটে চলেছেন স্থানীয় কিছু মানুষ। জলে ডুবে সে পয়সা তোলা প্রায় অসম্ভব, তাই অভিনব এক যন্ত্রই বানিয়ে ফেলেছেন তাঁরা। দড়ি বাঁধা চুম্বকের চাঁই। তাতে করেই উঠছে পয়সা। স্থানীয় ভাষায় এই কাজের নাম 'চুম্বক টানা'।

স্থানীয় বাসিন্দা, ছোট্ট আসমা খাতুন জানাল, সারাদিন এভাবে 'চুম্বক টেনে' তার অনেক টাকা উঠে আসে। সেই 'অনেক টাকা'র অঙ্ক হল, ২০ থেকে ২৫। অর্থাৎ, সারাদিন এই ঠান্ডায় জলে জলে পা ভিজিয়ে ঘোরার পর ২০-২৫ টাকার খুচরো পয়সা রোজগার হয়। ওই টাকা ঘরে দিয়ে দেয় সে, সংসার খরচ হিসেবেই তা কাজে লাগে। আসমা একা নয়, তার পিসিও এই কাজ করে তার সঙ্গে।

গঙ্গাসাগরে এরকমভাবেই 'চুম্বক টানা'র কাজ করছেন অনেকে। গোড়ালি-জল থেকে কোমর-জল পর্যন্ত চলে তাঁদের এই চিরুনি তল্লাশি। হাতের বড়সড় চুম্বকে জলের তলায় আটকে যায় ধাতব পয়সা।

পুণ্য অর্জনের জন্য বা পুজোর জন্য পুণ্যার্থীদের ভাসানো সেসব পয়সা যে শেষমেশ পুণ্যের কাজেই লাগছে আসমাদের মাধ্যমে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!
পুণ্যস্নানের সময় হঠাৎ পিরিয়ড, বা খিদেয় কাঁদছে শিশু! সাগরে মা-বোনেদের আশ্রয় 'শি কর্নার'