দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবদার রাখতে সরস্বতী পুজোয় চার বছরের ছোট্ট মেয়েকে শাড়ি পরিয়ে দিয়েছিলেন মা। মণ্ডপের মোমবাতি থেকে সেই শাড়ির আঁচলে আগুন লেগে যাওয়ায় পুড়ে মৃত্যু হল এক শিশুকন্যার। শিলিগুড়ির ইস্টার্ন বাইপাসের ঠাকুরনগর এলাকায় বুধবারের ঘটনা। গোটা ঘটনায় বাকরুদ্ধ এলাকাবাসী।
শিশুটির নাম বর্ণালী সরকার। গত বছর স্থানীয় একটি নার্সারি স্কুলে ওকে ভর্তি করা হয়েছিল। পাড়ার দিদিদের শাড়ি পরা দেখে এবার সরস্বতী পুজোর দিন ওরও শাড়ি পরার ইচ্ছে হয়। মেয়েকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছিলেন মা সোহাগীদেবী।
হলুদ শাড়িতে যেন ছোট্ট সরস্বতী। ছোট ছোট পায়ে পাড়ার পুজো মণ্ডপে সকলের সঙ্গে বর্ণালীও অঞ্জলি দিয়েছিল। বাগদেবীর সামনে অন্যদের মতো কয়েকটি বইও রাখে বর্ণালী। পুজো শেষে এদিনই যে বইগুলি ফেরত নেওয়া হয় না সেকথা ওর জানা ছিল না। ও বই নিতে যেতে ঠাকুমা সুষমাদেবী বলেন, “পরের দিন বই নিয়ে যেতে হয়। আমি কাল স্নান করে নিয়ে যাব।” তখনকার মতো সে বই রেখে দিয়েছিল।
পরে এক সময় আবার সে চলে যায় মণ্ডপে। ঘোরাঘুরি করার সময় অসাবধানতাবশত মণ্ডপে জ্বলতে থাকা মোমবাতি থেকে ওর শাড়ির আঁচলে আগুন লেগে যায়। শাড়িতে অনভ্যস্ত ছোট মেয়েটি আঁচল সামলে রাখতে পারেনি। কিছু বোঝার আগেই দাউ দাউ করে শাড়িটি জ্বলে ওঠে। কাছেই ছিলেন সুষমাদেবী। প্রসাদের থালা ফেলে দিয়ে তিনি নাতনির দিকে ছুটে যান। ঝাঁপিয়ে পড়ে নাতনির শাড়ির আগুন নেভাতে লাগেন। ততক্ষণে শরীর অনেকটাই ঝলসে গেছে বর্ণালীর।
আগুন নেভাতে গিয়ে সুষমাদেবীর শরীরেরও অনেকটা পুড়ে যায়। তাঁর শাড়িতেও আগুন লেগে যায় কিন্তু তাতেও রক্ষা করতে পারলেন না। সঙ্গে সঙ্গে একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তারা রাখেনি। শিলিগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলে বর্ণালীর চেহারা দেখে হাসপাতালও রাখেনি। রেফার করে দেওয়া হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তখনই পরিবারের লোকেরা বুঝে যান, বর্ণালী আর নেই।
সরস্বতী পুজোর দিনে শোক নেমে আসে পরিবার সহ গোটা এলাকায়। ক্ষোভে দুঃখে সরিয়ে দেওয়া হয় পুজোর মণ্ডপ। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন বর্ণালীর বাবা পালিশ-মিস্ত্রি বিশ্বনাথ সরকার। সরস্বতী পুজোর দিন শাড়ি পরে সেজেগুজে বের হয়েছিল বর্ণালী। এই শাড়ি পরা ছবিটিই ওর শেষ ছবি হতে চলেছে, সেকথা ভাবতেই পারেননি কেউ। জীবন শুরু হতেই শেষ হয়ে গেল ছোট্ট মোয়েটির।