দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে ‘সেটিংয়ের মিটিং’ বলে এক যোগে তোপ দাগল বাম-কংগ্রেস।
সিপিএমের মহম্মদ সেলিম থেকে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী, মনোজ চক্রবর্তীদের অভিযোগ, সারদা, নারদা-সহ আরও যা যা কেলেঙ্কারি করেছে শাসকদল, তা থেকে বাঁচতে রাজভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পায়ে পড়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের বক্তব্য, গোটা শহর যখন বিক্ষোভে তোলপাড়, তখন মুখ্যমন্ত্রী আসলে ভাইপো আর কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে যাতে সিবিআই না ছোঁয় তা সুনিশ্চিত করতে গিয়েছিলেন।
এদিন রাজভবন থেকে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, রাজ্যের যা পাওনা আছে তার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে এনআরসি, নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তাঁর কথায়, “আমাদের ২৮ হাজার কোটি টাকা পাওনা আছে কেন্দ্রের কাছে। আমরা বলেছি রাজ্যের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হোক। সেই সঙ্গে নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি এবং এনপিআর নিয়ে আমাদের আপত্তির কথা জানিয়েছি।”
সেলিম বলেন, “এসব গল্প কথা মানুষ জানে। উনি এর আগেও এসব করেছেন। গ্রিন রুমে এক কথা আর মঞ্চে এসে আরএক কথা।” সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য চাঁচাছোলা আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “আসলে মুখ্যমন্ত্রী গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদীকে ম্যানেজ করতে। যাতে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় আর রাজীব কুমারকে তদন্ত এজেন্সি না ছোঁয়।” কেন্দ্রের কাছে বকেয়া টাকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য উড়িয়ে সেলিম বলেন, “আমিও মন্ত্রী ছিলাম, সাংসদ ছিলাম। এসব নিয়ম-কানুন আমিও জানি। অর্থের ব্যাপারে কোনও কথা বলতে হলে অর্থমন্ত্রী আর অর্থসচিবের থাকার কথা। কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও তাই। ছেলে ভোলানো কথা বলে লাভ আছে! সবাই জানে ওই মিটিংয়ে কী সেটিং হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ক’দিন আগে মুখ্যমন্ত্রী বলছিলেন ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ। আর আজকে হয়ে গেল কা-ছা-কা-ছি।”
এর প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের এক মুখপাত্র বলেন, “আক্রমণ করতে হবে বলে সিপিএম এখন বানিয়ে বানিয়ে এসব কথা বলছে। অতীতে যখন বুদ্ধবাবু আর্থিক বকেয়া চাইতে মনমোহন সিং বা অটলবিহারী বাজপেয়ীর কাছে যেতেন তখন কি লেজে করে সচিবদের নিয়ে যেতেন? প্রধানমন্ত্রী –মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে নীতিগত বৈঠকই হয়। পরে তা আমলারা কার্যকর করেন।”
লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক হবে এটা কোনও অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। কিন্তু সময়টা দেখতে হবে। উনি যে আর্থিক বকেয়া পাওনার কথা বলছেন সেটা দিল্লি গিয়ে বলতে হয়। আর সিএএ, এনআরসির বিরুদ্ধে যখন সর্বভারতীয় স্তরে আন্দোলন গড়ে তোলা হচ্ছে তখন উনি বলছেন বৈঠকে যাবেন না। এর মানে পরিষ্কার।”
কংগ্রেস বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলেন, “এক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন মোদীর কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরাবেন। আর আজকে তিনি নিজের ভাই-ভাইপোদের বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পায়ে ধরতে চলে গেলেন। যতই উনি বলুন আর্থিক বরাদ্দ চাইতে গেছেন, বাংলার মানুষ ওঁর কথা বিশ্বাস করেন না।”