
শেষ আপডেট: 22 October 2018 18:30
মধুরিমা রায়
মায়ের সঙ্গে কৈলাসে পৌঁছনোর আগেই ইউ টার্ন নিয়ে আমার আপনার ঘরে এসে পৌঁছন লক্ষ্মী ঠাকরুণ। তাঁকে সাদরে আসনে বসাতে দেরি করে না কেউ। কারণ, ঝাঁপি উপচে পড়ুক কে না চায়? তাই উপাচারে কোনও ত্রুটি রাখার ইচ্ছে গৃহিণীদের নেই। তবে কত্তামশায় বাজার করছেন ঘুরেই। কারণ কথায় বলে বাজার করবে ঘুরে আর বিয়ে করবে দূরে। তো এ হেন বাজার আজ পুজোর আগের দিন কী বলছে?
https://www.youtube.com/watch?v=5_K8uarCG6c&feature=youtu.be লক্ষ্মীপুজোয় কারো বাড়িতে মূর্তি, কেউ বা কলাপাতার নৌকো, আবার ওপার বাংলা হলে স্পেশাল সরা। ছোট মূর্তি নিলে ১৫০-২০০ টাকা লাগছে। আবার দু’ ফুট থেকে সাড়ে তিন ফুটের মূর্তিতে ১১০০ থেকে ১৫০০ পর্যন্ত পকেট খরচ আপনার। যাঁরা পুজো করেন সরায়, তাঁদের এ বার সমস্যা বেশ। কারণ বিক্রেতারা বলছেন জোগান কম, চাহিদা বেশি সরার। তাই এতদিন যা ৭০-৮০ টাকায় পাওয়া যেত, তা ঘরে আনতে আপনাকে ১৫০-২০০ বা তারও বেশি খরচ করতে হচ্ছে। বাড়ির নিয়ম মেনে অনেকেই আবার কলাপাতার নৌকো বা কলাবৌ-এ পুজো সারবেন ভাবছেন। তাঁরাও অবশ্য ২০০ টাকার কমে মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে পারবেন না।
লক্ষ্মীপুজোয় প্রয়োজন হয় টুনি ফুল বা কেয়া ফুল। যদি আপনি দশ টাকার টুনি ফুল কেনেন, আপনার মুঠোও ভরবে না। আর কেয়া বা পদ্মকুঁড়ি এক এক পিস ২০ বা ২৫ টাকায় বিকোচ্ছে। ধানের ছড়া কিনতে গেলে দিতে হবে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বর্ষায় আসে প্রথম কদম ফুল। তবে এ সে কদম ফুল নয়, লক্ষ্মীপুজোয় ব্যবহার করা হয় শোলার কদম ফুল। শোলার কদম প্রতি পিস পাঁচ থেকে ১৫ টাকা। আর পাঁচ কদমের দাম ৪০ টাকা। এই ডিজিটাল যুগে আমরা আজকাল সবই হাতের মুঠোয় পাচ্ছি, তাই হাত ঘুড়িয়ে মা মাসিরা এখন আর নাড়ু-মোয়া বানাচ্ছেন না। বাজারে রেডিমেড পাবেন এই নারকেল আর তিলের নাড়ু, খই, মুড়ি আর চিঁড়ের মোয়া ও মুড়কি।


এক-একটা প্যাকেট চিঁড়ে, মুড়ি বা খইয়ের মোয়া হোক বা তিলের নাড়ু ,নারকেল নাড়ু—কোথাও ১০ টাকা কোথাও ২৫। দর করে কিনে ফেলতে পারলেই লক্ষ্মী পুজোর পরের ঘুম না আসা রাতগুলোর জোগান আপনার রেডিই রইল। এখন এ স্বাদের ভাগ হবে কী হবে না সেটা আপনার বিষয় কারণ এগুলো কিন্তু মায়ের হাতে গড়া নয়!
লক্ষ্মীপুজো মানেই আল্পনার পারদর্শিতা। বিজয়ার নিমকির সুচারু শিল্প পেরিয়ে আপনার বাড়ির মহিলারা অঙ্কন-পারদর্শী, তা জানার একটা মাধ্যম ছিল আল্পনা। তবে আজ আর কেউ চালের গুঁড়ো নিয়ে এ কংক্রিটের জঙ্গলে আল্পনা দেয় না। কিনে নেন লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ দেওয়া প্লাস্টিকের আল্পনা। আপনি তাতে সৌন্দর্য্য বা খুঁত কোনওটাই খুঁজবেন না, কারণ এগুলো সব একইরকম। মঙ্গলঘট হোক বা আমপাতার স্টিকার, দরজায় বাড়ির মঙ্গলার্থে লাগাতে চাইলে আপনি খরচ করুন ১০-৫০ টাকা। আসলে আজকাল মঙ্গল-অমঙ্গল সবই বাজারজাত। চালের গুঁড়োর আল্পনায় মায়ের পা আঁকা হলে তাতে বাড়ির গন্ধ পাওয়া যায়, এখন মা এর পায়ে
রেডিয়াম লাগানো।
তা হলে আর দেরি করবেন কী! নাকি গৃহিণীর দেওয়া বাজারের ফর্দ নিয়ে বেরিয়েই পড়বেন পকেট হাল্কা করে উপাচারের সামগ্রী কিনতে!