.webp)
Justice Biswajit Bose
শেষ আপডেট: 12 March 2024 21:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইনজীবীর রহস্য মৃত্যু মামলায় আদালতের নির্দেশে তদন্তভার পুলিশের হাত থেকে জেলা গোয়েন্দা দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩ ডিসেম্বর আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান শিলিগুড়ি হায়দার পাড়া এলাকার বাসিন্দা তথা শিলিগুড়ি আদালতের আইনজীবী নবীন সরকার। এরপর ৪ ডিসেম্বর এনজিপি থানার ফুলবাড়ি মার্ডার মোড় এলাকার ক্যানেল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় খুনের অভিযোগ দায়ের করে তাঁর পরিবার।
কিন্তু কয়েকমাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তে তেমন কোনও অগ্রগতি দেখতে না পেয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ির সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় মৃত আইনজীবীর পরিবার।
ওই মামলায় গত ৭ মার্চ মৃতর পরিবারের আইনজীবী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আদালতে জানান, "এটি একটি খুনের মামলা। কিন্তু পুলিশ তদন্তের শুরু থেকেই আত্মহত্যার ঘটনা মাথায় নিয়ে গয়ংগচ্ছ ভাবে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত আইনজীবীর দেহ ক্যানেলের জলে ডুবে যাওয়ার পর ৪ টা লকগেট পার করে ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার ভেসে গেছে। যদি এভাবে জলে ডুবে মৃত্যু হয়ে থাকে তবে তার দেহে যা যা আঘাতের চিহ্ন থাকা দরকার, যেমন শরীরে ক্ষত চিহ্ন, ফুসফুস কিংবা স্টমাকে জল থাকা, দেহের চামড়া কুঁচকে যাওয়া ইত্যাদি কিছুই ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি।"
এরপরই তদন্তকারী অফিসারকে তীব্র ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি তাঁকে মামলার তদন্তভার থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। পরিবর্তে কোনও দক্ষ পুলিশ আধিকারিককে দিয়ে এই মামলার তদন্ত করিয়ে মঙ্গলবার আদালতে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি। এদিন পুলিশের রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়বলেন, "আদালতের নির্দেশে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার নিউ জলপাইগুড়ি থানার পুলিশের হাত থেকে মামলার তদন্ত ভার সরিয়ে শিলিগুড়ি ডিটেক্টিভ ডিপার্টমেন্টের হাতে তুলে দিয়েছেন। আমরা সন্তুষ্ট। আশা করছি এবার নিশ্চয়ই সঠিক তদন্ত হবে।"
অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল জয়জিৎ চৌধুরী বলেন , "আইনজীবীর মৃত্যুর তদন্ত যাতে ভালভাবে হয় তার জন্য আগেই আমাদের তরফে বিষয়টি দেখা হবে বলে আদালতকে জানিয়েছিলাম। সেই মোতাবেক রিপোর্ট জমা পড়েছে। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের এক দুঁদে গোয়েন্দা অফিসার ওই মৃত্যুকাণ্ডের তদন্ত করবেন।"