
শেষ আপডেট: 30 August 2023 10:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আদানি গোষ্ঠীর (Adani Group) বিরুদ্ধে জোর করে জমি অধিগ্রহণের (Land Acquisition) মামলায় কেন্দ্রের হলফনামা তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। কীভাবে জমি অধিগ্রহণ হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সম্পর্কে কেন্দ্রের কাছে এক সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা তলব করেছে আদালত।
ঝাড়খন্ড থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত পাওয়ার প্রজেক্টের কাজ শেষ করেছে আদানি গোষ্ঠী (Adani Group)। ওই বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জোর করে জমি অধিগ্রহণ (Land Acquisition) করার অভিযোগে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর। সেইসঙ্গে আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। ওই মামলাতেই কেন্দ্রের কাছে হলফনামা তলব করেছে আদালত।
আদালত সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলায় আদানি গোষ্ঠীর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মুর্শিদাবাদের উপর দিয়ে হাইটেনশন তার গিয়েছে বাংলাদেশে। মুর্শিদাবাদের যে অঞ্চলের উপর দিয়ে এই হাইটেনশন যাচ্ছে সেখানে আম ও লিচু বাগান থাকায় প্রবল আপত্তি তোলেন কৃষকরা। এই নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে পুলিশের একাধিকবার খণ্ডযুদ্ধ হয়েছে।
কৃষকদের বক্তব্য, মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা থানার বেনিয়া গ্রামের বেশিরভাগ লোক আম ও লিচুর চাষের উপর নির্ভরশীল। এলাকায় যেদিকে খালি জমি রয়েছে, সেদিক দিয়ে হাইটেনশন তার গেলে কারও আপত্তি নেই। বাগানের উপর দিয়ে হাইটেনশন তার গেলে ফসলের ক্ষতি হবে। কিন্তু প্রশাসনকে জানিয়ে লাভ হয়নি। উলটে পুলিশের মার জুটেছে তাঁদের কপালে। জমি লুটের অভিযোগ তুলে আগেই সরব হয়েছিল এপিডিআর। রাজ্যের প্রশাসন কর্পোরেটদের জমি লুটের সুযোগ করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করে তাঁরা। এরপর বিষয়টি নিয়ে তাঁরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। এই বিষয়ে পৃথক আর একটি মামলা দায়ের করেন আরও ৩৫ জন ফল চাষি।
সেই মামলার শুনানিতে আদানি গোষ্ঠীর আইনজীবী বলেন, “ইতিমধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ঝাড়খন্ড থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত তার নিয়ে যাওয়ার কাজ শেষ। ফলে এখন আর এই মামলার গুরুত্ব নেই।“ তবে মামলাটি এখনই নিষ্পত্তি করে দিতে রাজি নয় প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানিয়েছে এ ব্যাপারে আগে কেন্দ্রকে হলফনামা দিতে হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে ওই হলফনামা জমা দেবে কেন্দ্র। তারপর এই মামলার শুনানি হবে।
আরও পড়ুন: যাদবপুরে বসছে সিসিটিভি ক্যামেরা, ৩৮ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করল শিক্ষা দফতর