
শেষ আপডেট: 13 December 2022 07:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিবিআই (CBI) হেফাজতে বগটুই (Bagtui) গণহত্যার মূল অভিযুক্ত লালন শেখের (Lalan Seikh) মৃত্যুর পর, সোমবার সন্ধেবেলাই দ্য ওয়ালে লেখা হয়েছিল, এ ব্যাপারে সিআইডি (CID) তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে রাজ্য সরকার। আনুষ্ঠানিকভাবে তেমন ঘোষণা না হলেও মঙ্গলবার লালনের ময়নাতদন্তের আগে রামপুরহাট হাসপাতালে পৌঁছে গেল সিআইডি অফিসারদের চার জনের টিম। সেই সঙ্গে লালনের মৃত্যুতে রাজ্য পুলিশ খুনের মামলা দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে।
সোমবার সন্ধেয় নবান্নের কর্তারা এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সেটাই হল। এদিন দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে রামপুরহাট হাসপাতালের অটোপসি সেন্টারে লালনের দেহের ময়নাতদন্ত হবে। তার আগে সেখানে ভবানী ভবনের কর্তাদের পৌঁছে যাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।
সোমবার সন্ধেবেলা বীরভূমের পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ময়নাতদন্ত না হলে মৃত্যুর কারণ জানা সম্ভব নয়। যদিও পুলিশের একটি সূত্র থেকে গোড়া থেকেই দাবি করা হচ্ছিল, সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পের শৌচাগার থেকে লালনের দেহ উদ্ধার হয়েছে ‘পার্শিয়াল হ্যাঙ্গিং’ অবস্থায়। অর্থাৎ তাঁর পা মাটিতে ঠেকে ছিল। পরে যে ছবি সামনে আসে তাতেও দেখা যায় কালো অন্তর্বাস পরা লালনের দেহ ঝুলছে, পা মাটিতে ঠেকে রয়েছে।
লালনের পরিবার ইতিমধ্যেই অভিযোগ করেছে, তাঁকে খুন করা হয়েছে। স্ত্রী আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করে জানিয়েছেন, সিবিআই ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ চেয়েছিল। তারমধ্যেই রাজ্য পুলিশ সিবিআইয়ের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় খুনের মামলা দায়ের করেছে। অর্থাৎ ময়নাতদন্তের আগেই পদক্ষেপ করল রাজ্য পুলিশ। যা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
লালনের মৃত্যু নিয়ে নতুন করে তপ্ত হচ্ছে বগটুই। সিবাইয়ের ক্যাম্প অফিস ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। চলছে জাতীয় সড়ক অবরোধও। জানা গিয়েছে দুপুর দুটো নাগাদ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত হবে লালনের দেহের। তারপর দেহ নিয়ে যাওয়া হবে বগটুইয়ে। সেখানেই সমাধিস্থ করা হবে সিবিআই হেফাজতে মৃত লালন শেখকে। প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফায় ৬ দিনের সিবিআই হেফাজত শেষে আজ মঙ্গলবারই লালনকে আদালতে তোলার কথা ছিল।