দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক মাস আগেই দ্য ওয়ালের প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথা স্পষ্ট করে লেখা হয়েছিল। মঙ্গলবার হলও তাই।
একুশের ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্ল। ক্রীড়া দফতরের প্রতি মন্ত্রী ছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে হাওড়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন লক্ষ্মীরতন। মন্ত্রিসভার পাশাপাশি জেলা সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন লক্ষ্ণী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করে নেবেন বলেও খবর।
হাওড়া উত্তর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন লক্ষ্মী। রাজনৈতিক সূত্রের মতে, মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফার পর এবার সংগঠন ও দল থেকে তাঁর ইস্তফাও অনিবার্য। তিনি একা নন, হাওড়া জেলা থেকে আরও এক মন্ত্রী, আরও এক বিধায়ক এবং প্রাক্তন মেয়র তৃণমূল ছাড়ার সম্ভাবনাও প্রবল।
এক মাস আগে রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তরুণ নেতা শুভেন্দু অধিকারী। লক্ষ্মীও তুলনায় নবীন প্রজন্মেরই রাজনীতিক। তাঁর ভাবমূর্তি স্বচ্ছ। একুশের ভোটের আগে তাঁর দল ছাড়া শাসক শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন অনেকে।
ব্যাপারটা সে দিক থেকেই শুধু উদ্বেগের নয়। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, দক্ষিণবঙ্গের যে জেলা তৃণমূলের জন্য সাংগঠনিক ভাবে সবথেকে ঘেঁটে রয়েছে তা হল হাওড়া। জেলায় সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় ও বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে গোষ্ঠী বিবাদ সুবিদিত। এই পরিস্থিতিতে গত বছর ২১ জুলাইয়ের পর অরূপ রায়কে জেলা সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে লক্ষ্মীরতনকে সেই পদে বসিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দৃশ্যতই তার পর লক্ষ্মীরতন ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জোট বেঁধেছিলেন। অরূপ রায় মূল জেলা সংগঠনের থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাতে সম্ভবত তাঁর গোঁসা হয়। তার পর হঠাৎ একদিন তাঁর বাড়িতে দেখা যায় প্রশান্ত কিশোরকে।
কিন্তু তাতেও যে ঘরদোর বিছানা আলনা ঠিক ঠাক করে সাজানো গেছে তা সম্ভবত নয়। লক্ষ্মীরতনের ইস্তফাই তার প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কথায় বলে গঙ্গার পশ্চিমকূল বারাণসী সমতুল। রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পর বাংলার সেই বারাণসীতে তাঁর সচিবালয় সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অথচ দেখা যাচ্ছে, সেখানেই সংগঠন সব থেকে আন্দোলিত। লক্ষ্মীরতন ইস্তফা দেওয়ার আগে প্রকাশ্যে একাধিকবার দলের এক শ্রেণির নেতার তীব্র সমালোচনা করেছেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রশান্ত কিশোরের কাজের ধরন নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রবীণ বিধায়ক জটু লাহিড়ী। রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন বালির বিধায়কল বৈশাখী ডালমিয়া। আবার ধনকড়ের চিকিৎসা শুরু করেছেন হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথিন চক্রবর্তী।
সব মিলিয়ে নবান্নর আশপাশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন যেন জমে উঠেছে। ভোট আসছে। ভোট আসছে।