
শেষ আপডেট: 3 June 2023 09:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো, মুর্শিদাবাদ: প্রবল একটা ঝাঁকুনি আর বিকট শব্দ। সবকিছু তালগোল হয়ে গেল যেন। কিছুক্ষণের জন্য সংজ্ঞাও যেন লোপ পায়। একটু ধাতস্থ হতেই সব কালো। তারপরেই অবর্ণনীয় আর্তনাদে ঘোর কাটে। তারপর থেকে পরবর্তী সময়টা আর মনেই রাখতে চাইছেন না করমণ্ডল এক্সপ্রেসে সওয়ার হওয়া সালারের ছয় শ্রমিক।
শুক্রবার শালিমার রেলস্টেশন থেকে করমণ্ডল এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন সালারের তালিবপুরের ওই ছ’জন। কেরলে যাচ্ছিলেন কাজের জন্য। প্রথম ঘণ্টাচারেক কেটেছিল নির্বিঘ্নেই। তারপর যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তা যেন কারও কখনও না হয়। বলছেন তাঁরা। অভিশপ্ত করমণ্ডল এক্সপ্রেসের যাত্রী রাজেশ শেখ জানান, তাঁদের গ্রামের পাঁচজন ও পাশের পাড়ার একজন কেরল যাচ্ছিলেন কাজের জন্য। ট্রেনের উপরের বাঙ্কে বসেছিলেন। হঠাৎই বিকট শব্দ। প্রবল ঝাঁকুনিতে মাটিতে পড়ে যান তাঁরা।
রাজেশ বলেন, “আচমকা কেমন অন্ধকার হয়ে যায়। বুঝতে পারি আমাদের কামরাটা আড়াআড়ি দাঁড়িয়ে গেছে। কোনও মতে বাইরে বেরিয়ে এসে বুঝতে পারি এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম। তারপরেই যে দৃশ্য দেখি তা ভোলা যাবে না। কেউ হাত-পা ভেঙে পড়ে রয়েছে। কারও আবার মাথার খুলি বেড়িয়ে চলে গিয়েছে। জীবনে সে সব ভুলতে পারব না।”
বরাতজোরে বেঁচে যাওয়া রাজেশের আঘাত লেগেছে পায়ে। তাঁর বন্ধুরাও কমবেশি আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের পাশের গ্রাম থেকে কেরলে কাজের জন্য রওনা হওয়া যুবকের আঘাত গুরুতর। তাঁকে বালেশ্বরেরই একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বালেশ্বর বিপর্যয়: ট্রেনের কামরা কেটে চলছে উদ্ধারকাজ, দেখুন আকাশ থেকে তোলা ভিডিও