দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকালই কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, লকডাউনের মধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিজেদের রাজ্যে ফেরানোর কাজ শুরু হবে। সে ব্যাপারে রাজ্যগুলিকে নোডাল বডি গঠন করা থেকে অন্যান্য কী কী করতে হবে তাও গাইডলাইনে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আজ, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবা ভিডিও কনফারেন্সে করেন সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে।
এর পরে আজ বিকেলে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা বলেন, "আমরা কেন্দ্রকে বলেছি, এই বিষয়টা নিয়ে যাতে তাড়াহুড়ো না করা হয়। তাতে এত দিন যে মানুষ কষ্ট করে লকডাউন পালন করল, সে সবটাই বিফলে যাবে। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে সবটা করতে হবে।" এ প্রসঙ্গে মুখ্যসচিব আরও বলেন, "বাইরে থেকে যাঁরাই আসুন তাঁদের কন্টেনমেন্ট জোনে ঢুকতে দেওয়া হবে না।"
রাজ্য সরকারের তরফে এদিন বলা হয়েছে, রাজ্যে কন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা ৪৪৪টি। অর্থাৎ ভিন্ রাজ্য থেকে.আসা শ্রমিকদের যদি এই সমস্ত এলাকায় বাসস্থান হয় তাঁদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া হবে.না। সে ক্ষেত্রে তাঁদের কোথায় রাখা হবে, সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হবে কিনা, তা স্পষ্ট করেনি নবান্ন।
গত ২৭ এপ্রিল মুখ্যসচিব পরিসংখ্যান দিয়ে জানিয়েছিলেন, রেড জোনের চার জেলায় কোথায় কত কন্টেনমেন্ট জোন রয়েছে। তাতে বলা হয়েছিল, কলকাতায় ২২৭টি, হাওড়ায় ৫৬টি, উত্তর ২৪ পরগনায় ৫৭টি এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ৮টি কন্টেইনমেন্ট জোন রয়েছে। কিন্তু ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা, হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনায় বেশ কয়েকটি কন্টেনমেন্ট জোন বেড়ে গিয়েছে। এদিনের তথ্য অনুযায়ী কলকাতায় এখন কন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা ২৬৪টি, হাওড়ায় ৭২টি এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ৭০টি। এদিন মুখ্যসচিব বলেছেন, আগামী কয়েকদিনে এই সংখ্যা বাড়তেও পারে আবার কমতেও পারে।
এছাড়া অরেঞ্জ জোনের জেলাতেও কন্টেনমেন্ট জোন রয়েছে। যেমন হুগলির শেওড়াফুলি, সিঙ্গুরের কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত, ডানকুনি পৌর এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ড, নদিয়ার তেহট্ট, চাকদহ, ফুলিয়া, তাহেরপুরের মতো জায়গাগুলিকে কন্টেইনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
মুখ্যসচিব আরও বলেন, বাইরে থেকে যাঁরা আসবেন তাঁরা রাজ্য সরকারকে জানালে প্রশাসন প্রস্তুতি রাখবে রাজ্যে ঢুকিয়ে তাঁদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার। তাঁর কথায়, "প্রশাসনকে অবগত না করে শয়ে শয়ে লোক যদি বর্ডারে চলে এসে বলেন, 'আমরা এই রাজ্যের লোক, আমাদের ঢুকতে দিন' তাহলে কিন্ত অসুবিধে হবে। কারণ আমাদের এক এক জন ধরে ধরে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে।"
এমনিতেই বিরোধীরা দাবি তুলেছে রাজ্য সরকার সাত দিনের মধ্যে ভিন্ রাজ্যে থাকা বাংলার শ্রমিকদের ফেরানোর ব্যবস্থা করুক। এ ব্যাপারে লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরী, বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ থেকে বিধানসভার বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী প্রত্যেকের মত কমবেশি একই।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এত শ্রমিককে নিজেদের রাজ্যে ফেরানো যেমন কেন্দ্রের কাছে বিরাট চ্যালেঞ্জ তেমন রাজ্যগুলির কাছেও কম বড় চ্যালেঞ্জ নয়। হাজার হাজার শ্রমিক ভিন্ রাজ্য থেকে ফিরলে তাঁদের যথাযথ স্ক্রিনিং করানো থেকে নমুনা পরীক্ষা--এটা একটা শক্ত কাজ। এদিন মুখ্যসচিব সেটাই বারবার বোঝাতে চান।