
শেষ আপডেট: 11 June 2023 11:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: পঞ্চায়েত নির্বাচনে এবার সরাসরি অংশ নেবেন না কুড়মিরা জানিয়ে দিলেন কুড়মি নেতা অজিত মাহাত। সম্প্রতি ঘাঘর ঘেরা কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, কুড়মিরা এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী দেবে। তার পরেই চার জেলার কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে বৈঠকে বসল আদিবাসী কুড়মি সমাজ।
এসটি তকমা পেতে প্রায় ৭০ বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কুড়মিরা। নির্বাচনের আগে তাদের বারে বারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেই দাবি তাঁদের পুরো হয়নি। তাই নিজেরাই এবার রাজনীতিতে নামতে চাইছেন।
শনিবার কুড়মিদের ঘাঘর ঘেরা কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে, এবার তারা পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী দেবেন। তার জন্য গ্রাম জাগরণ করার চেষ্টা করছেন। গ্রেফতার হওয়া কুড়মি নেতা রাকেশ মাহাতদের জামিনে মুক্ত করার জন্য তাঁরা কুড়মি গ্রামে গ্রামে গিয়ে আর্থিক সাহায্য চাইবেন।

যদিও প্রার্থী দেওয়া নিয়ে ঘাঘর ঘেরা কেন্দ্রীয় কমিটির এই সিদ্ধান্তে সহমত নন হননি আদিবাসী কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিত প্রসাদ মাহাত। তিনি জানিয়েছেন, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ঝাড়গ্রাম ও মেদিনীপুর এই চার জেলার কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের তাঁরা উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করছেন। সেখানে নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করবেন না। কুড়মিদের বাড়ির দেওয়ালেও কোনও রাজনৈতিক দলকে প্রচারের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। উপরন্তু কোনও কুড়মি সম্প্রদায়ের মানুষ রাজনৈতিক বৈঠকে যাবে না।
ঘাঘর ঘেরা ও আদিবাসী কুড়মি সম্প্রদায়ের এই মতবিরোধ অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুড়মি নেতারা। কয়েকদিন আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলা চালানোর জন্য কয়েকজন কুড়মি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণার আগেই উত্তাল হয়ে উঠেছিল পরিস্থিতি। তখনই কুড়মি সমাজের মানুষের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। আদিবাসী কুড়মি সমাজ তাঁদের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই এখন দেখার।
'মতুয়াধাম কারও সম্পত্তি নয়, তিন মাস পর আবার আসব', ঠাকুরনগরে শান্তনুকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের