সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা এখন ঠিক কেমন, কী বলছেন চিকিৎসকরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্থিতিশীল হলেও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অবস্থা এখনও সংকটজনক। উদ্বেগ কাটেনি। মঙ্গলবার বিকেলের বুলেটিনে একথাই জানিয়েছে বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল রাত থেকেই বাইপ্যাপ ভেন্টিলেশনে রয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। হাসপাতাল সূত্রে খবর
শেষ আপডেট: 13 October 2020 12:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্থিতিশীল হলেও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অবস্থা এখনও সংকটজনক। উদ্বেগ কাটেনি। মঙ্গলবার বিকেলের বুলেটিনে একথাই জানিয়েছে বেলভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল রাত থেকেই বাইপ্যাপ ভেন্টিলেশনে রয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বাইপ্যাপের সামান্য উন্নতি হয়েছে। আপাতত ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে দেওয়া হচ্ছে না সৌমিত্রবাবুকে। তবে অবস্থার অবনতি হলে প্রয়োজনে অন্য ভেন্টিলেশনের কথা ভাবনাচিন্তা করবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা নির্মিত মেডিক্যাল বোর্ড। একাধিক কো-মর্বিডিটি থাকায় উদ্বেগ আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সৌমিত্রবাবুর শারীরিক অবস্থা এখন কেমন?
ডাক্তাররা বলছেন, বর্ষীয়ান অভিনেতার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও উদ্বেগ পুরোটা কাটেনি। তার প্রধান কারণ এনসেফ্যালোপ্যাথি। এনসেফ্যালোপ্যাথি হল মস্তিষ্কের রোগ যা কোভিড সংক্রমণের কারণে হতে পারে। যেহেতু সৌমিত্রবাবুর নিউরোলজিক্যাল সমস্যা বা স্নায়বিক রোগ রয়েছে তাই এনসেফ্যালোপ্যাথির উপসর্গ দেখা গেছে তাঁর মধ্যে। কোভিড সংক্রমণে এনসেফ্যালোপ্যাথি হলে অধিক উত্তেজনা, ভুলে যাওয়া, ট্রমা, উদ্বেগ দেখা দেয়। সৌমিত্রবাবুরও তেমনই উপসর্গ দেখা গেছে।
সৌমিত্রবাবুর হার্টের অবস্থা ভাল। লিভার ফাংশন খুব একটা খারাপ নেই।
ডাক্তাররা বলছেন, ফুসফুসে সংক্রমণ রয়েছে তবে সারিয়ে ফেলা সম্ভব। ইনভ্যাসিভ ভেন্টিলেশন দেওয়ার এখনই কোনও প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন না ডাক্তাররা। সৌমিত্রবাবুকে এখন, নন-ইনভ্যাসিভ ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। এই জাতীয় ভেন্টিলেশনে মুখে মাস্ক পরিয়ে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে হয়। তবে রিপোর্টে যা দেখা যাচ্ছে, অক্সিজেন স্যাচুরেশন লেভেল ৯৫ শতাংশের বেশি। কাজেই আশা করা যায়, তাঁর শ্বাসের সমস্যা দ্রুত সেরে যাবে।

মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণে প্রস্রাবে ই-কোলাই পাওয়া গিয়েছে। সোডিয়ামের মাত্রা বেড়েছে। তবে এমআরআই রিপোর্টে খারাপ কিছু পাওয়া যায়নি। অন্যান্য অর্গানও ঠিকমতো কাজ করছে।
মস্তিষ্কে এনসেফ্যালোপ্যাথির কারণে মৃদু উত্তেজনা রয়েছে সৌমিত্রবাবুর। তাঁর মস্তিষ্কের স্থিতি কিছুটা স্তিমিত। ঘুম কমে গেলেও তন্দ্রাভাব রয়েছে।
গতকাল রাতেই হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছিল যে সৌমিত্রবাবুর শরীরে কার্বন-ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়েছে। অস্থিরতা রয়েছে এবং মানসিক ভাবেও উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন তিনি। ফলে উদ্বেগ কাটেনি। বরং স্থিতিশীল অবস্থা হলেও চিন্তার কারণ আছে। এমনিতেই করোনা আক্রান্ত হলে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। তার উপর সৌমিত্রবাবুর শরীরে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চিন্তা বেড়েছিল ডাক্তারদের। তবে এখন অক্সিজেন স্যাচুরেশন লেভেল বাড়ায় চিন্তা কিছুটা কেটেছে। তাঁর সেরে ওঠার সম্ভাবনাও জোরালো বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।