
শেষ আপডেট: 21 December 2022 13:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে অবিচার করেছেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় (Kalyanmoy Ganguly)! এমনই মন্তব্য করে কলকাতা হাইকোর্টের (Kolkata Highcourt) বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায় রাজ্যকে নির্দেশ দিলেন, দু'সপ্তাহের মধ্যে চাকরিতে ফেরাতে হবে যোগ্য প্রার্থীকে।
প্রসঙ্গত, বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে এসএসসির নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত করছে সিবিআই। সেই মামলাতেই এখন জেল হেফাজতে রয়েছেন কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়।
বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায় এদিন আদালতে বলেন, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় অবিচার করেছেন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে। অবিলম্বে নতুন শূন্যপদ তৈরি করতে হবে রাজ্য সরকারকে, মেধাতালিকার প্রথমে থাকা চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগপত্র তুলে দিতে হবে।
মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, মেধাতালিকায় প্রথম হয়েও মেলেনি চাকরি মেলেনি যোগ্য প্রার্থীর, উল্টে যাঁরা ওয়েটিং লিস্টে ছিলেন, তাঁরা গত তিন বছর ধরে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন শুধুমাত্র কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের গাফিলতির কারণে।
তথ্য বলছে, ২০১৬ সালের নবম-দশমের এসএলএসটি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় প্রথম স্থানে ছিলেন তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়। তথাগত ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের অঙ্কের শিক্ষক হিসেবে প্যানেলে নথিভুক্তও হয়েছিলেন। এর পরে ২০১৯ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁকে সুপারিশ পত্র দেয় রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং উত্তর দিনাজপুরের সিট গ্রাম বিদ্যাভবন (উচ্চমাধ্যমিক) স্কুলে নিয়োগের জন্য বলা হয়।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের সুপারিশ পত্র পাওয়ার পরে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তৎকালীন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ও নিয়োগপত্র তুলে দেন তথাগতর হাতে। তারপর তথাগত সংশ্লিষ্ট স্কুলে যোগদান করতে গিয়ে দেখেন, সেখানে বাংলা মাধ্যমে পঠনপাঠন হয়, ইংরেজি মাধ্যমে নয়। তাই সেখানে শূন্যপদই নেই তাঁর জন্য। নিরুপায় তথাগত তখন এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দ্বারস্থ হয়ে পুরো বিষয়টি জানানোর পরেও কোনও তরফেই কোনও রকম পদক্ষেপ করেনি কেউ। অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তথাগত বাবু।
আজ, বুধবার মামলার শুনানিতে তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী আশিসকুমার চৌধুরী আদালতে সওয়াল করেন, তাঁর মক্কেল তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায় একজন তালিকাভুক্ত বৈধ ও যোগ্য প্রার্থী, যিনি ২০১৯ সাল থেকে নিয়োগপত্র পেয়েও এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের গাফিলতির কারণে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আছেন। অথচ যাঁরা ওয়েটিং লিস্টে রয়েছেন এবং তথাগতর থেকে অনেক কম নম্বর পেয়েছেন, তাঁরা বহাল তবিয়তে চাকরি করে যাচ্ছেন।
এদিন বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায় চূড়ান্ত রায় দিতে গিয়ে বলেন, 'এটি ঠিক নয়। প্রার্থীর প্রতি অবিচার করা হয়েছে। রাজ্য সরকারকে আমি অবিলম্বে নির্দেশ দিচ্ছি, দু'সপ্তাহের মধ্যে শূন্যপদ তৈরি করতে হবে এবং আরও দু'সপ্তাহের মধ্যে ওই যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগপত্র তুলে দেবেন।
বিশ্বভারতীকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা হাইকোর্টের! কেন উপাচার্যকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন অধ্যাপক