'হ্যাং ইয়োর করোনা, এত দিন কী করছিলেন', টেট-মামলায় হাইকোর্টের ধমক রাজ্য ও পর্ষদকে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের হাইকোর্টে মুখ পুড়ল রাজ্যের। এবার টেট মামলা নিয়ে বিচারপতির ভর্তসনার মুখে পড়ে শিক্ষা দফতর।
২০১৮ থেকে ২০ ব্যাচের পিটিশনারদের, ২০১৭ সালে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তির টেট পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার অর্ডার দিয়েছিল আদালতের সিঙ্গেল বেঞ্
শেষ আপডেট: 2 February 2021 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের হাইকোর্টে মুখ পুড়ল রাজ্যের। এবার টেট মামলা নিয়ে বিচারপতির ভর্তসনার মুখে পড়ে শিক্ষা দফতর।
২০১৮ থেকে ২০ ব্যাচের পিটিশনারদের, ২০১৭ সালে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তির টেট পরীক্ষায় বসতে দেওয়ার অর্ডার দিয়েছিল আদালতের সিঙ্গেল বেঞ্চ। যার পরীক্ষাও হল কয়েক দিন আগেই, ২০১২১ সালের ৩১ জানুয়ারি। কিন্তু সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলাও করেছিল প্রাইমারি শিক্ষা পর্ষদ।
সে মামলায় সরকার পক্ষের অ্যাডভোকেট লক্ষী গুপ্তর দাবি, মামলাকারী পরীক্ষার্থীরা ২০১৮ সালে এলিজিবল হয়েছিল। কিন্তু বিজ্ঞপ্তি জারি হয় ২০১৭ সালে। সুতরাং সেই টেটটা যদি ২০১৮ সালে হতো, তাহলে তাঁরা আবেদনই করতে করতে পারতেন না। তাই এখন তাঁদের আবেদন কোনও ভাবেই গ্রাহ্য হতে পারে না।
বিচারপতি এ কথায় প্রশ্ন করেন, ২০১৮-তে নতুন টেট হয়নি কেন? ২০১৭-র টেট হতে কেন ২০২১ হয়ে গেল? এমন কী অসুবিধা ছিল? কত শূন্যপদ আছে?
জবাবে পর্ষদ জানায়, প্রতি বছর টেট পরীক্ষা নেওয়ার গাইডলাইন ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন (এনসিটিই)-তে থাকলেও তা বাধ্যতামূলক নয়। রাজ্য নিজের সুবিধা ও সুযোগ বুঝে নিতে পারে। এ সম্পর্কিত নথিও দেখায় পর্ষদ। জানায়, শূন্যপদ রিক্রুটমেন্ট নোটিসের আগে জানানো হবে।
এর পরেই চলতে থাকে দীর্ঘ সওয়াল জবাব।
- আদালত: সেই নোটিস কবে আসবে?
- পর্ষদ: টেটের রেজাল্ট বেরোনোর পর।
- আদালত: টেটের রেজাল্ট কবে আসবে?
- পর্ষদ: ২.৫৩ লক্ষ ছেলেমেয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। দেখতে তো একটু সময় লাগবে। ১ মাস লাগতে পারে। ৩ মাসও লাগতে পারে।
- আদালত: কিন্তু আপনারা এতদিন পরীক্ষা নেননি কেন?
- পর্ষদ: আজ্ঞে করোনা ছিল।
- আদালত: হ্যাং ইয়োর করোনা। ২০১৮ ছিল, ২০১৯ ছিল। কী করছিলেন তখন?
- পর্ষদ: সেটা ম্যাটার না। ম্যাটার হল, ২০১৭ সালের নোটিফিকেশনের পরে এরা এলিজিবল হতে পারে না।
- আদালত: আপনি RTE 2009 দেখেছেন। তাতে সময়মতো শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এটা ছাত্রদের অধিকার এবং RTE 2009 ঠিকঠাক ইমপ্লিমেন্ট করা সরকারের দায়িত্ব।
- পর্ষদ: মাই লর্ড, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু রাজ্যকে প্রাক্টিক্যালি ভাবতে হবে। তাই প্রতি বছর টেট সম্ভব নয়।
- আদালত: কীরকম প্রাকটিক্যাল?
- পর্ষদ: যেমন ধরুন প্রথম টেটে ৫০ লক্ষ পরীক্ষা দিয়েছিল। দ্বিতীয় টেটে ৩৪ লক্ষ। এখন ২.৫৩ লক্ষ। এটা একটা হারকিউলিয়ান টাস্ক। আর প্রতি বছর নিলে সিট কম থাকবে। কিন্তু ক্যান্ডিডেট অনেক বেশি। তাই সরকারের পক্ষে প্রতি বছর এত আয়োজন করা মুশকিল। সে জন্য সিট বাড়ার অপেক্ষা করে একটু দেরিতে টেট নেয়া হয়।
- আদালত: এখন কত শূন্য পদ আছে?
- পর্ষদ: সেটা বলা মুশকিল। তবে আগের টেটে ৪০ হাজারের বেশি নিয়োগ করা হয়েছে। এখন ১৬ হাজার ৫০০ নিয়োগ করা হবে। তার পরেও এই টেট থেকে আবারও নিয়োগ করা হবে।
- আদালত: প্রতিবছর তো স্কুলে ভ্যাকেন্সি তৈরি হয়। ৪ বছর পরে টেট নিচ্ছেন। ২০১৭-তে যে স্কুলে ভ্যাকেন্সি তৈরি হয়েছিল সেটা ৪ বছর ধরে ফাঁকা পড়ে আছে। এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ হবে?
- পর্ষদ: আমরা সেজন্য ১৬ হাজার ৫০০ নিয়োগ তো করছি। তাছাড়া কেসের কারণে দেরি হয়েছে।
- আদালত: এত দিন করেননি কেন? কেন ৪০ হাজার ৫০ হাজার শূন্যপদ সৃষ্টি হওয়ার অপেক্ষা করছেন? RTE 2009 অনুসারে ছাত্রছাত্রীদের অধিকার নষ্ট হচ্ছে না? গাইডলাইন 'ডিরেক্টরি ইন নেচার' বলে যা খুশি তাই করবেন আপনারা?
- পর্ষদ: মাই লর্ড, আমাদের বিষয়টা সেটা নয়। ২০১৭-র নোটিফিকেশনে ২০১৮ ঢুকে পড়েছে, তার প্রতিকার চাইছি।
- আদালত: শিক্ষার অধিকার আইন নিয়ে আপনারা ছিনিমিনি খেলেছেন। আজ একটু পরে ফুল কোর্ট রেফারেন্স আছে। আগামীকাল দুপুর দুটো থেকে শুনব।
আগামী কালের শুনানিতে পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার।