দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামনের মাস থেকেই পুরোদমে কাজ শুরু হয়ে যাবে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের। তাই যাতায়াতের সুবিধের জন্য বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে জলপাইগুড়ি পর্যন্ত জাতীয় সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য কেন্দ্রীয় পরিবহণ সচিবকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। উত্তরবঙ্গের এক ব্যক্তির করা জনস্বার্থ মামলার শুনানির পর শুক্রবার হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে এই এই কাজ চলছে। কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, আগামী মাসের মধ্যে সার্কিট বেঞ্চের কাজ শুরু হয়ে যাবে। তাই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই কাজ শেষ করতে হবে।
উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সার্কিট বেঞ্চের। কারণ কলকাতায় মামলার জন্য ছুটে আসতে গেলে টাকা এবং সময় দুটোই চলে যায়। তাই উত্তরবঙ্গের চার জেলা, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারের মানুষের জন্য এই সার্কিট বেঞ্চের অনুমোদন দিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট। তাও আবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জলপাইগুড়ি সফরের ঠিক আগেই।
মোদী এসে সেই সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধনও করেন। কিন্তু তাঁর করা উদ্বোধন নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয় বাংলার সরকার। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর নেই, কনে নেই, ব্যান্ডপার্টি বাজাতে এসেছেন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর তোয়াক্কা না করে এই উদ্বোধন করা হয়েছে। এরপর গুঞ্জন ছিল পাল্টা উদ্বোধন করা হবে রাজ্যের তরফে। তারপর জানা যায়, হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বিভাসরঞ্জন দে নবান্নকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর কেন্দ্রীয় আইন সচিব তাঁদের একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, ৯ মার্চ সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন করে ১১ মার্চ থেকে পুরোপুরি বেঞ্চের কাজ শুরু করে দিতে হবে। ফেব্রুয়ারির শেষে বা মার্চের প্রথম সপ্তাহে ভোট ঘোষণা হয়ে গেলে মুখ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। তবে এটা পরিষ্কার, ওই দিন উদ্বোধনের কাজ শেষ করে আদালতের কাজ কর্ম শুরু হয়ে যাবে। তাই এ দিন এই নির্দেশ দিল হাইকোর্ট।
সেই সঙ্গে আজ্য প্রশাসনকেও বলা হয়েছে, ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটিকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করার জন্য।