
শেষ আপডেট: 13 April 2023 08:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও পড়শি রাজ্য চষে বেড়িয়ে রাজু ঝার (Raju Jha) খুনিদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য উদ্ধার করতে পারলেও বারোদিন পরেও কিছুতেই তাদের নাগাল পাচ্ছে না পুলিশ। ফোন (phone) কলের পরিবর্তে খুনিরা ’কলিং অ্যাপ’ (calling app) ব্যবহার করাতেই বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। খুনিদের নাগাল পেতে পুলিশের এখন ভরসা খুনের প্রত্যক্ষদর্শী ঝালমুড়ি বিক্রেতার দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী আঁকা খুনিদের স্কেচ। যা এই রাজ্যের প্রতিটি থানা ও পড়শি রাজ্যের পুলিশের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আততায়ীদের নিয়ে পালানো সাদা রঙের অন্য একটি গাড়ির শেষ লোকেশন পুলিশ পেয়েছে বিহারের ভাগলপুরে। পুলিশ জানিয়েছে, খনি অঞ্চলের বেতাজ বাদশা রাজুকে এলোপাথাড়ি গুলি করার পর একটি নীল গাড়িতে তারা শক্তিগড় থানার কিছুটা দূর পর্যন্ত যায়। সেখানে নীল গাড়িটি ফেলে রেখে তারা সাদা রংয়ের অন্য আরেকটি গাড়ি চড়ে চম্পট দেয়। বিভিন্ন টোল প্লাজার ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ এমনই তথ্য পেয়েছে।
ঘটনার দিন গভীর রাতেই শক্তিগড় থানার কাছে নীল গাড়িটির হদিশ পায় পুলিশ। ওই গাড়ি থেকে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, মদের বোতল ও একাধিক নম্বর প্লেটও পায়। তারপরেই পুলিশ আরও নিশ্চিত হয় যে ওই নীল গাড়িতে চেপেই আততায়ীরা শক্তিগড়ে এসেছিল। এরপরেই শার্প শুটাররা কোথা থেকে ওই নীল গাড়িতে করে কোন কোন পথ ধরে শক্তিগড়ে পৌঁছয়, তার তথ্য সংগ্রহে নামে। খতিয়ে দেখে দীর্ঘ সড়কপথের সিসিটিভি ফুটেজ। তদন্তে উঠে আসে ঝাড়খণ্ডের একটি এমআরএফ শোরুমে আততায়ীরা তাদের নীল চারচাকা গাড়ির টায়ারে ’নাইট্রোজেন গ্যাস’ ভরে। মদ কেনে ঝাড়খণ্ডের একটি মদের দোকান থেকে। নীল গাড়িটি ৩০ মার্চ দুপুর ২ টোর খানিক পর বাঁকুড়ার ‘কালাপাথর’ টোল প্লাজায় ১৩০ টাকা টোল মিটিয়ে পার হয়। ওই টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজে নীল গাড়িটিতে চারজন সওয়ার থাকার ছবিও ধরা পড়ে। এ সবের ভিত্তিতেই খুব তাড়াতাড়ি ব্রেক থ্রু পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছিলেন জেলার পুলিশসুপার কামনাশিস সেন।
কয়লা পাচার মামলায় গত ৩ এপ্রিল ’ইডি’ দফতরে হাজিরা দেওয়ার দিন ছিল রাজু ঝার। তার ঠিক একদিন আগে পয়লা এপ্রিল রাত পৌনে আটটা নাগাদ শক্তিগড়ে কলকাতামুখী ২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি ল্যাংচার দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায় সাদা রঙের একটি গাড়ি। ওই গাড়ির চালকের পাশের শিটে বসে ছিলেন রাজু ঝা। একই গাড়ির পিছনের আসনে বসে ছিলেন রাজু ঝার সহযোগী ব্রতীন মুখোপাধ্যায় ও গরু পাচার মামলায় ফেরার অভিযুক্ত আব্দুল লতিফ। রাজু ঝায়ের গাড়ি শক্তিগড়ে ল্যাংচার দোকানের সামনে দাঁড়ানোর কিছু সময়ের মধ্যেই সেখানে এসে দাঁড়ায় নীল রঙের একটি চারচাকা গাড়ি। অভিযোগ, ওই গাড়ি থেকে নেমেই দুই শার্পশুটার পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পরপর গুলি চালিয়ে রাজু ঝার শরীর ঝাঁঝরা করে দিয়ে পালিয়ে যায়। রাজুর পিছনের শিটে বসে থাকা ব্রতীন মুখোপাধ্যায়ের হাতেও গুলি লাগে। এই হামলার সময়েই বেপাত্তা হয়ে যান আব্দুল লতিফ।
খুনের পরেই রাজু ঝার সঙ্গে একই গাড়িতে আব্দুল লতিফের উপস্থিত থাকার কথা সহ গোটা ঘটনা উল্লেখ করে রাজু ঝার গাড়ির চালক নূর হোসেন শক্তিগড় থানায় এফআইআর দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে খুনের ধারায় মামলা রুজু করে ও ‘শিট’ গঠন করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।