
শেষ আপডেট: 23 April 2022 12:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রোগীদের জন্য বরাদ্দ ওষুধ হাসপাতাল থেকে পাচারের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ল কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের (Katwa Hospital) তিন কর্মী। অভিযুক্তরা কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের আয়া ও সাফাইকর্মী বলে পরিচিত। শনিবার সকালে হাসপাতালের বর্জ্য পদার্থ ফেলার টানেলের ভিতর দিয়ে অব্যবহৃত নতুন বিছানার চাদর, কম্বল, অ্যাপ্রন ও স্যালাইনের বোতল পাচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির এক কর্মী পাচারকারী ও ক্রেতাকে বমাল পাকড়াও করে পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেন। এরপরেই পুলিশ এসে ক্রেতা ও পাচারকারীকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে দু-ব্যাগ স্যালাইনের বোতল সহ চার বস্তা চিকিৎসা সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। হাসপাতালের সামগ্রী পাচারের অভিযোগে এক মহিলা সহ তিনজনকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। এরপরেই কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার পাচারের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কাটোয়া থানায় অভিযোগ দায়েরছিকিতস
বেশ কিছুদিন ধরে রোগীরা হাসপাতালের চাদর, কম্বল, অ্যাপ্রন স্যালাইন ও ওষুধ ঠিকমতো পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠছিল। কাটোয়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের ব্যবহারের জন্য পরিজনদের বাড়ি থেকে চাদর কম্বল নিয়ে আসতে হচ্ছিল। রোগী কল্যাণ সমিতির কর্মীদের মনে সন্দেহ হওয়ায় বিশেষভাবে নজরদারি শুরু হয়।
শনিবার সকালে চণ্ডীচরণ মুখোপাধ্যায় নামে হাসপাতালের এক কর্মী দেখতে পান, হাসপাতালের বর্জ্য ফেলার টানেলের ভিতর দিয়ে প্যাকেট ভর্তি কিছু ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এক ব্যক্তি সামগ্রীগুলো তার মোটরবাইকে তুলছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের ক্যাম্পের পুলিশ ও সহকারী সুপারকে খবর দেন। তখনই অভিযুক্ত ক্রেতাকে সামগ্রী সহ আটক করে পুলিশ।
ধৃত কাওসার শেখ নদিয়ার কালীগঞ্জ থানার বাসিন্দা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, সামগ্রীগুলো তিনতলার মহিলা ওয়ার্ড থেকে দু'জন আয়া ও এক সাফাইকর্মী বিক্রির জন্য পাচার করেছে। পুলিশ তিনজনকে আটক করলেও একজন পালিয়ে যায়। মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীর পরিজনরা ওই ওয়ার্ডের আয়াকে পেটি কাঁধে করে করিডরে নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন।
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার সেখ শৌভিক আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, নজরদারির জন্য টানেলের করিডরে সিসি ক্যামেরা বসাবেন তাঁরা। এছাড়াও হাসপাতালের অন্যান্য সামগ্রী কিছু গিয়েছে কিনা তার জন্য স্টোরের রেজিস্টারও খতিয়ে দেখবেন। দোষীদের বিরুদ্ধে যাতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় তার জন্য থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছেন।