
শেষ আপডেট: 14 April 2023 15:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে সপ্তাহখানেক আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বাংলার পরিস্থিতি। অশান্তির আবহে তার দুদিন পরেই হনুমান জয়ন্তীতে রাজ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় নামানো হয়েছিল কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী। কিন্তু সেসবের মধ্যেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির (communal harmony) অনন্য ছবি দেখা যায় কাঁকসার সিলামপুরে। সেখানে একই ধর্মীয় স্থানে পুজো দেন হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষই।
কাঁকসার সিলামপুরে রয়েছে এমন এক অদ্ভুত উপাসনাস্থল, যা একই সঙ্গে হিন্দুদের কাছে মন্দির, আর মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের কাছে মাজার (Kanksa temple)। স্থানীয়দের কাছে এটি বারা খান ও মোবারক খানের মন্দির নামে পরিচিত।
এই মন্দিরে রয়েছে দুটি সমাধি। একজন হলেন পীর হজরত বারা খান শহীদ এবং অন্যজন হজরত মোবারক খান শহীদ। লোককথা অনুযায়ী, দুজন নাকি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
হজরত মোবারক খান শহীদ জন্মসূত্রে ছিলেন হিন্দু। তাঁর নাম ছিল সত্যনারায়ণ গোস্বামী। পরে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি । দুই বন্ধু একসঙ্গে এলাকায় ঘুরে ঘুরে দৈবমাহাত্ম্য প্রচার করে বেড়াতেন।
কথিত আছে, আজ থেকে প্রায় এগারোশো বছর আগে একসঙ্গেই দেহ রাখেন দুই বন্ধু। দুটি দেহ একই জায়গায় পাশাপাশি সমাধিস্থ করা হয়। পরে স্বপ্নাদেশ পেয়ে এক ব্যক্তি ওই সমাধিস্থলে মন্দির তৈরি করে পূজা করতে শুরু করেন। আস্তে আস্তে লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে বারা খান-মোবারক খানের মাজার তথা মন্দিরের কথা।

দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ নিজেদের মনস্কামনা পূরণের আশায় পুজো দিতে আসেন এই মন্দিরে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শেষ শুক্রবার পুজো উপলক্ষে মেলা বসে সিলামপুরে। হিন্দু মহিলারা সারাদিন নির্জলা উপোস করে দিনের শেষে মন্দিরে পুজো দিয়ে উপবাস ভঙ্গ করেন। এর কয়েকদিন পরেই একদিনের জন্য রোজা রাখেন মুসলমান মহিলারা। তাঁরাও সূর্যাস্তের পর দুই পীরের সমাধিতেই এসে রোজা ভঙ্গ করেন।
বছরের পর বছর চলে আসছে এমনটাই। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই মন্দিরে মন থেকে কিছু চাইলে তা পাওয়া যায়। আর সেই মনোবাসনা পূরণের আশাতেই শুধু সিলামপুর নয়, দূর দূরান্ত থেকে, এমনকী বাঁকুড়া, বীরভূম সহ আশেপাশের অন্যান্য জেলা থেকেও মানুষ এসে ভিড় জামান এই মন্দিরে।
‘১০০% মহিলাদেরই পুরুষাঙ্গ নেই!’ রূপান্তরকামী বিতর্কের মাঝে দাবি ঋষি সুনকের