দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামীকাল মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির কার্যসমিতির বৈঠকে কৈলাস বিজয়বর্গীয় কি যোগ দেবেন? কার্য সমিতির বৈঠকের সূচি ঠিক হওয়ার পর থেকেই দলের অন্দরমহলে এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে।
ভোট বিপর্যয়ে যে সর্বভারতীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ-অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে কৈলাস তাঁদের অন্যতম। কলকাতায় হেস্টিংসে বিজেপির নতুন রাজ্য দপ্তর-সহ একাধিক দলীয় অফিসে মধ্যপ্রদেশের এই নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। এই পরিস্থিতি কৈলাস মঙ্গলবারের বৈঠকে কার্যসমিতির সদস্যদের আক্রমণের মুখে পড়তে পারেন, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না দল।
রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতাসীন করতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কৈলাসকে ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলায় প্রধান কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক করে পাঠায়। তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়ার পিছনে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতাকে যেমন বিবেচনায় রাখা হয়েছিল, তেমনই মধ্যপ্রদেশের ঘরোয়া রাজনীতির কারণেই তাঁকে নিজের রাজ্যের বাইরে পাঠানোর প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল তখন। মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গে কৈলাসের সম্পর্ক বরাবরই তিক্ত। তার উপর কৈলাসের ছেলের কাজকর্ম নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বারে বারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই সব নানা অঙ্ক মাথায় রেখেই কৈলাসকে বাংলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গত লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করলেও তারপর থেকে রাজ্য নেতাদের বড় অংশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে।
কী ছিল দূরত্ব তৈরির প্রেক্ষাপটে?
বিজেপির অন্দরমহলের খবর, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে রাজ্যে বিজেপির ১৮টি আসন প্রাপ্তির পরও বাংলার নেতাদের ব্যাপারে কৈলাস নেতিবাচক রিপোর্ট দিয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। দিলীপ ঘোষের অনুগামীদের বক্তব্য, ২০১৪-তে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদীকে সামনে রেখে বিজেপি লড়াই করে। ২০১৯-এ দলকে গোটা দেশে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। কিন্তু ২০১৪-তে বিজেপি এ রাজ্যে পেয়েছিল মাত্র দুটি লোকসভা আসন। সেখানে ২০১৯-এ পায় ১৮টি। তার আগে ২০১৮-র পঞ্চায়েত ভোটেও দল তৃণমূলকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। তারপরও রাজ্য নেতৃত্বর প্রতি কেন্দ্রীয় নেতাদের অনাস্থার পিছনে মধ্যপ্রদেশের ওই নেতার ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে দিলীপ-অনুগামীদের মনে। ভোটের আগে তৃণমূল থেকে লাগামহীনভাবে নেতা-কর্মীদের বিজেপিতে যোগদান করানোর পিছনেও কৈলাসের হাত ছিল বলে ওই শিবিরের বক্তব্য।
মুকুল রায়কে বিজেপিতে নিয়ে যাওয়ার পিছনে কৈলাসের বড় ভূমিকা ছিল। পরবর্তীকালে মুকুলও রাজ্য বিজেপিতে কৈলাসের অন্যতম বল-ভরসা হয়ে ওঠেন। ক্রমে মুকুল-কৈলাস জুটি রাজ্য বিজেপিতে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। দলীয় সূত্রের খবর, ভোটের আগে তৃণমূল ভাঙাতে মুকুলকে সামনে রেখে এগোন কৈলাস। সেই মুকুল রায় এখন শুধু খাতায়কলমে বিজেপির বিধায়ক। প্রকাশ্যে, ঘটা করে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে কৈলাসকে রাজ্যে দেখা যায়নি। দলে অনেকেই মনে করছেন, বঙ্গ বিজেপিতে কৈলাসের অবস্থা এখন জল ছাড়া মাছের মতো।