
শেষ আপডেট: 15 March 2023 10:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বাড়ির সামনে পোস্টার সাঁটার ঘটনায় পুলিশ মোটেও ঠিকমতো তদন্ত করছে না। এমনই অভিযোগে বিরক্তি প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন ওই মামলার শুনানিতে বিচারপতি পুলিশকে বলেন, 'তদন্তের নামে আদালতের সঙ্গে লুকোচুরি খেলবেন না। তদন্ত শামুকের গতিতে হচ্ছে না ঘোড়ার গতিতে, সেটা আমরা দেখব। পুলিশকে সঠিক নাম দিন। একজনের পরিবর্তে আর একজনের নাম দেওয়া ঠিক হবে না'
এদিন বিচারপতি কমিশনার অফ পুলিশকে নির্দেশ দেন, ৯ জানুয়ারির সেই ঘটনায় পুলিশ যে ৬ জনের নাম জানিয়েছিল, সেই ৬ জনকে যেন আগামী শুনানির দিন উপস্থিত করা হয়। শুধু তাই নয়, এজলাসের বাইরে বিক্ষোভে যুক্ত থাকা আইনজীবীদেরও চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। বলেছেন, পরবর্তী শুনানির দিন সেই ঘটনায় যুক্তদের নাম সিল কভারে বন্দি করে বিশেষ বেঞ্চের হাতে যেন তুলে দেন বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।
জানা গেছে, কমিশনার অফ পুলিশও এদিন সিল কভারে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন আদালতে। কিন্তু সেই রিপোর্ট এখানও খোলা হয়নি। আগামী শুনানির দিন খোলা হবে। ২৭ মার্চ ফের শুনানির তারিখ ঘোষণা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারীর গ্রেফতারির বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন বিচারপতি মান্থা। তার পরেই শাসকদলের রোষ নজরে পড়েছিলেন তিনি, এমনই অভিযোগ উঠেছিল আদালতে। এর পরে ৯ জানুয়ারি দেখা যায়, হাইকোর্ট চত্বর এবং বিচারপতির বাড়ির সামনে পোস্টারে ছেয়ে গেছে।
সেই পোস্টারে ছিল চার জনের ছবি। এক ফ্রেমে অমিত শাহ এবং শুভেন্দু অধিকারী, পৃথকভাবে বিচারপতি মান্থা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্যালিকা মেনকা গম্ভীর। তাতে লেখা চোখা চোখা বাক্য। লক্ষ্য বিচারপতি মান্থা। যদিও সেই পোস্টার কারা লাগিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। নীচে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের নামও নেই। লেখা ছিল, ‘শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ওঠা মামলায় স্থগিতাদেশ দিয়ে দেওয়া হল। এমনকী তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করার ব্যাপারে জারি হল নিষেধাজ্ঞা। বিচারপতি হয়ে তিনি এটা করতে পারেন না। অথচ ইডি-র কাছে মধ্যরাতে লাঞ্ছিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্যালিকার ন্যায্য রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিলেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা।’
শুধু তাই নয়, সেদিন বিচারপতি মান্থার এজলাসের বাইরেও দরজা আগলে রাখেন আইনজীবীদের অনেকে। পাল্টা অন্য আইনজীবীরা সেখানে গিয়ে ভিড় হঠাতে গেলে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দু’ঘণ্টা পরে এজলাসে ঢুকতে পারেন বিচারপতি মান্থা।
এর পরের দিন আদালত অবমাননার রুল জারি করে সেই মামলা প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের এজলাসে পাঠান বিচারপতি মান্থা। তিনি দাবি করেন, হাইকোর্টের ১৩ নম্বর এজলাসের বাইরে যে সিসি ক্যামেরাগুলি রয়েছে সেগুলির ফুটেজ সংরক্ষণ করে প্রধান বিচারপতির এজলাসে পাঠাতে হবে। সবটা দেখে প্রধান বিচারপতি ফৌজদারি মামলা রুজু করেন।
পরীক্ষায় কড়া গার্ড চলবে না, দাবি তুলে মুর্শিদাবাদে কলেজে ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধ পড়ুয়াদের