দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিরাকোলে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে ঘটনায় হামলা নিয়ে গেরুয়া নেতার বিরুদ্ধেই সুর চড়াল তৃণমূল। শুক্রবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, "নাড্ডা ক্রিমিনালদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরেছেন।" তিনি আরও বলেন, "জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা থাকা কারও কনভয়ে অত গাড়ি, মোটরসাইকেল থাকার কথা নয়।"
এদিন সকালেই জানা গিয়েছিল, ডায়মন্ড হারবারের ঘটনা নিয়ে রাজ্যপালের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। আগামী ১৪ ডিসেম্বর ডেকে পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুলিশের ডিজি বীরেন্দ্রকে। সেই প্রসঙ্গে কল্যাণ বলেন, “কোনও একটি ঘটনার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার মুখ্যসচিব এবং ডিজিকে ডাকতে পারে না। এটা সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী। ভারতের কোনও আইনে এই ভাবে চিঠি দেওয়া যায় না। কী ভাবে কেন্দ্রীয় সরকার এটা করল তার জবাব দিতে হবে।” সংবিধান উল্লেখ করে আইনজীবী সাংসদ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের কথা বলার কোনও এক্তিয়ার নেই।”
শ্রীরামপুরের সাংসদ এও বলেন, আইন ভেঙেছেন নাড্ডা। তাঁর কথায় ইতিমধ্যেই তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। একটি মামলা হয়েছে উস্থি থানায়। দুটি ফলতায়। কল্যাণ বলেন, “বিজেপি নেতা রাকেশ সিং গাড়ির দরজা খুলে প্ররোচনা তৈরি করেছেন। নাড্ডার কনভয়ে কত র্যা ফ, কত এএসপি, কত ডিএসপি, কত কনস্টেবল মোতায়েন ছিল তারও ফিরিস্তি দেন কল্যাণবাবু।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন দমদমের প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ও। তিনি বলেন, দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন ক্যাম্পে ৫৬ লক্ষ মানুষ এই ক্যাম্পে গিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। সৌগতবাবুর কথায়, “দুয়ারে সরকার থেকে নজর ঘুরিয়ে দিতেই ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনে এবং দিল্লিতে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলোর বাইরে যে ঘটনা ঘটেছে তারও নিন্দা করে তৃণমূল। সৌগত রায়ের কথায়, “যারা ভিতু তারাই রাতের অবন্ধকারে এমন কাজ করে।” যদিও বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেছেন, “ডায়মন্ড হারবারে যে ঘটনা ঘটেছে তার তুলনায় দিল্লিতে কিছুই হয়নি।”