
শেষ আপডেট: 1 December 2019 18:07
দিন কয়েক আগে ঝাড়গ্রামের জামবনী ব্লকের বিদায়ী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সমীর ধল মন্দিরের হনুমানদের বিভিন্ন ফল খাওয়ান। তিনিই বর্তমানে চিল্কিগড় মা কনক দুর্গা মন্দির ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কার্যকরী সভাপতি পদে রয়েছেন। সমীরবাবু লক্ষ করে দেখেন, ফল খাওয়ানোর পরে হনুমানেরা আর চুরি-ছিনতাই করেছে না। এর পরেই তিনি ঠিক করেন, প্রতি মাসের এক একটি দিন কেউ যদি হনুমানদের বিভিন্ন ফল খাওয়ায়, তাহলে হনুমানগুলি শান্ত থাকবে।মাসের ৩১টি দিনের জন্য ৩১ জন খাবার সরবরাবকারীও ঠিক করে ফেলেছেন তিনি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মন্দির কমিটিরই কয়েক জন সদস্য। বাকিদের মধ্যে প্রথম সারিতে মাসের প্রথম দিনেই নাম রয়েছে জামবনী ব্লকের প্রাক্তন বিডিও মহম্মদ আলম আনসারি।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, চিল্কিগড়ের জঙ্গলটি পশ্চিমবঙ্গের জীববৈচিত্রের একটি অঙ্গ। এই জঙ্গলে বহু ভেষজ গাছগাছালি রয়েছে। কিন্তু জঙ্গলের মধ্যে তেমন কোনও ফলের গাছ নেই। জামবনী পঞ্চায়েত সমিতি ও চিল্কিগড় মন্দির কমিটি যৌথ ভাবে চেষ্টাও করেছিল জঙ্গলের মাঝে ফলের গাছ লাগানোর। কিন্তু সে পরিকল্পনা সফল হয়নি। ফলে খাবারের সন্ধানে হনুমানগুলি প্রায়ই উপদ্রব করতে থাকে। কম করে ৪৫০ হনুমান রয়েছে সেখানে।
আজ, ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকেই শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক ভাবে হনুমানদের খাওয়ানো। এ দিন নিজের হাতে হনুমানদের খাওয়ানোর জন্য কোচবিহার থেকে এসেছিলেন প্রাক্তন বিডিও মহম্মদ আলম আনসারি। উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলার এসপি অমিত কুমার ভরত রাঠোর, ঝাড়গ্রাম সদরের এসডিপিও অরণ্যসুন্দর ভট্টাচার্য, ঝাড়গ্রামের ডিএফও বাসবরাজ হলাইছি, জামবনী ব্লকের বিওএমএইচ অভিরূপ সিং, জামবনী থানার আইসি বিশ্বজিৎ পাত্র।
ঝাড়গ্রামের এসপি অমিতকুমার ভরত রাঠোর বলেন, "খুব ভাল উদ্যোগ। এর ফলে হনুমানগুলিও পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে পাবে এবং জঙ্গলের জীববৈচিত্র্যও বজায় থাকবে। মহম্মদ আলম আনসারি বলেন, "আমি এখানকার বিডিও থাকাকালীন ফলের গাছ লাগানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু বাঁচেনি। কারণ এই জঙ্গলটি অন্য রকম উদ্ভিদের জন্য। মন্দির কমিটির এই নতুন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।"
মন্দির কমিটির কার্যকরী সভাপতি সমীর ধল বলেন, ঠহনুমানের প্রতিদিন খাওয়ানো হলে প্রতিটি হনুমান পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে পাবে। এদের উপদ্রবও কমবে।"