
শেষ আপডেট: 13 June 2022 08:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় জঙ্গলমহলে (Jangalmahal) ছিল মাওবাদী আতঙ্ক। বহু পরিবারের লোক গোপনে নাম লেখাতেন এই দলে। নিজেদের নির্দিষ্ট দাবি দাওয়া নিয়ে সরব হতেন তাঁরা। তবে তাঁদের আন্দোলন ছিল সশস্ত্র। ২০১১ সালে বাংলার সরকারের পালা বদলের পর ধীরে ধীরে পাল্টেছে সেই চিত্র। অনেক পরিবারই ফের মূল স্রোতে ফিরেছে। ঝাড়গ্রামের মাহাত পরিবারের সদস্যরা একসময় যোগ দিয়েছিলেন মাওবাদী (Maoist) দলে। তবে বহুদিন হল সে পথ ছেড়ে চলে এসেছেন তাঁরা। সেই পরিবারে উঁকি দিয়েছে শিক্ষার আলো। পরিবারের মেয়ে এবার উচ্চমাধ্যমিকে (HS 2022) তাক লাগানো নম্বর পেয়ে নজর কেড়েছে সকলের।
ঝাড়গ্রাম থানার আগুইবনি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধুপুর গ্রামের মাহাত পরিবারের মেয়ে রচনা এবার উচ্চমাধ্যমিকে পেয়েছেন ৪৫৯ নম্বর। মেয়ের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা পরিবার। প্রতিবেশীদের চোখে মুখেও খুশির ছাপ স্পষ্ট। প্রতিনিয়ত পড়াশুনা নিয়েই থাকেন রচনা। সঙ্গী যেমন ছিল অভাব অনটন, তেমনই সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প থেকে মিলেছে সাহায্যও। যা তাঁকে পড়াশুনা এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
এই পরিবারের সদস্যরাই এক সময়ে মাওবাদী খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন। রচনার বাবা, কাকা দু’জনেই ছিলেন মাওবাদীদের সক্রিয় সদস্য। ২০১০ সালে জেলেও যেতে হয় রচনার কাকা ধনঞ্জয় মাহাতকে। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থতি পাল্টায়। সেই ঘরের মেয়ের সাফল্য দিশা দেখাবে আগামী প্রজন্মকে।
উচ্চমাধ্যমিক পাশ করল দেড় ফুটের পাপ্পু! ধূপগুড়ির কিশোর কি পারবে শিক্ষক হতে
বিরিহান্ডি হাইস্কুলের ছাত্রী রচনা। মাধ্যমিকেও ভাল ফল করেছিলেন তিনি। তারপর কলা বিভাগে ভর্তি হন। এবার কী করবেন রচনা? তাঁর ইচ্ছে শিক্ষিকা হওয়ার। এভাবেই পড়াশুনা চালিয়ে যেতে চান তিনি। তবে একসময় এই গ্রামেই মাওবাদী আন্দোলনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল রচনার। কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি। নিজের চেষ্টায় ও জেদে আজ এই জায়গায় দাঁড়িয়েছেন তিনি।
মেয়ের সাফল্যে খুশি বাবা জলধর মাহাত জানান, মেয়ে খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। নিয়মিত পড়াশোনা করার ফল পেয়েছে। রচনার স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল রচনার। লকডাউনের সময় স্কুল বন্ধ থাকলেও নিয়মিত পড়াশোনা করেছেন। অভাব ও আতঙ্ককে সঙ্গী করে উচ্চমাধ্যমিকের পথ পেরিয়ে এখন শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জঙ্গলমহলের রচনা।