দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড সংক্রমণের জেরে কয়েক দিন ধরেই তালাবন্ধ পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ব্লকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখানকার ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী-সহ মোট ৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল গোটা জামালপুর ব্লকে মোট ৩৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্যে ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দু'জন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ঝাড়ুদার রয়েছেন।
গতকাল অর্থাৎ শনিবার থেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লাগাতার জীবাণুনাশক স্প্রে করার কাজ চলছে। রবিবারও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়। বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকে ফের স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করা হবে। চিকিৎসকের অভাবে অন্যান্য বিভাগ বন্ধ হয়ে গেলেও জরুরী বিভাগ সচল রাখার সবরকম প্রয়াস চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিডিওর কথায়, এমনিতেই জামালপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন রোগীর চাপ থাকে। তাছাড়া বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে চাপ আরও বেড়েছে। গোটা জেলায় বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা অনেকটাই বন্ধ। ফলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপরই স্থানীয়দের নির্ভরতা বেড়েছে। আর তার ফলে চাপ বেড়েছে জামালপুরের মত ছোট স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক আনন্দমোহন গড়াই বলেছেন, শুধুমাত্র জামালপুর ব্লকের বাসিন্দারা নন রায়না ও ভিন্ জেলা যেমন হুগলির ধনেখালি থেকেও চিকিৎসার জন্য রোগী আসে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।
পূর্ব বর্ধমান জেলায় কোভিদের গ্রাফ ক্রমশ উর্ধ্বমুখী। প্রতিদিনই এই জেলায় নতুন করে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। মৃত্যুও হচ্ছে সংক্রমণে। গত ২৪ ঘন্টায় এই জেলায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে কোভিডে। ক্রমাগত আতঙ্ক বাড়ছে এলাকায়।
গতকালই দমকল বাহিনীর পক্ষ থেকে গোটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সংলগ্ন এলাকা স্যানিটাইজ করা হয়েছে। আনন্দমোহনবাবু জানিয়েছেন তিনি নিজেই একটি স্যানিটাইজার মেশিন কিনে প্রতিদিন হাসপাতালের বেড ও অন্যান্য অংশে স্যানিটাইজার করেন। কিন্তু হাজার রকম সতর্কতা মানলেও কোনও ভাবেই সংক্রমণ রোখা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে যেহেতু স্বাস্থ্যকেন্দ্র জরুরি পরিষেবার আওতায় পড়ে তাই আগামীকাল থেকে যতটা সম্ভব কাজ চালু রাখার চেষ্টা করা হবে।