
শেষ আপডেট: 4 November 2022 06:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: কারও পরনে হাফপ্যান্ট-টিশার্ট। কারও আবার ফ্রক। কেউ কেউ জিন্সও পড়েছে। কারও হাতে কাস্তে-হাতুড়ি আঁকা লালঝান্ডা, কারও হাতে ডিওয়াইএফআইয়ের সাদা পতাকা। তারা স্লোগান দিচ্ছে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। গলা মেলাচ্ছে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানেও। দু’পাশে চাষের জমি। মাঝের রাস্তা ধরে হেঁটে চলেছে তারা। তাদের বয়স ৬-১১ বছরের মধ্যে।
কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নেওয়া পক্ককেশ নয়। সিপিএমের (CPM) মিছিলের নেতৃত্ব দিতে দেখা গেল একদল শিশুকে। জামালপুরের (Jamalpur) সেই মিছিলের ভিডিও বাম মহলে হুহু করে ভাইরাল হয়েছে। আবার বিজেপি-তৃণমূল শিশুদের ঝান্ডা হাতে রাস্তায় নামানো নিয়ে সিপিএমকে তীব্র আক্রমণও শানিয়েছে।
সিপিএমের যুব সংগঠন জামালপুর ১ নম্বর আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক সন্দীপ সাঁতরা বেশকিছু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন। তা আবার ট্যাগ করেছেন সিপিএমের জামালপুর ১ নম্বর এরিয়া কমিটির সম্পাদকদ সুকুমার মিত্র সহ ৫৬ জনকে। ওই ভিডিও পোস্ট করে সিপিএমের যুব নেতাটি লিখেছেন, ‘এ এক নতুন ভোরের লড়াই। ছোট ছোট কুঁড়িদের ফোটবার সংগ্রাম চলছে চলবে। এ লড়াই বাঁচার লড়াই, এ লড়াই লড়তে হবে, এ লড়াই জিততে হবে।’
১ নভেম্বর দেখে গোটা রাজ্যের সব বুথ এলাকায় পদযাত্রার কর্মসূচি শুরু করেছে সিপিএম। চলবে গোটা মাস ধরে। জামালপুরের রামনাথপুর থেকে জ্যোৎশ্রীরাম ও পাঁচড়া থেকে চৌবেড়িয়া পর্যন্ত পদযাত্রা করে সিপিএম। সেখানেই এই শিশু ব্রিগেডকে দেখা গিয়েছে।
এনিয়ে তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়া সিপিএমের নেতারা এখন শিশু ও নাবালকদের কাঁধে ভর দিয়েই অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।’ বিজেপি নেতা সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘শিশু ও নাবালকরা কেউ ভোটার নয়। তারা রাজনীতির কিছু বোঝেও না। তা জেনেও সিপিএম নেতারা তাঁদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শিশুদের সামিল করিয়ে গর্হিত কাজ করেছেন। সিপিএম এখন খড়কুটো ধরে বাঁচতে চাইছে।’
চাইল্ড লাইনের পূর্ব বর্ধমান জেলা কোঅর্ডিনেটর অভিজিৎ চৌবে এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘শিশুদের হাতে পার্টির ঝান্ডা ধরিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সামিল করানোটা একেবারেই অনুচিত কাজ হয়েছে। এমনটা চলতে থাকলে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে এগিয়ে যাবে। বাচ্চাদের স্কুলমুখী করে তাদের হাতে পেন ,বই ,খাতা তুলে দিয়ে শিক্ষার আলো দেখানোটাই কাম্য। তাতে সমাজেরও মঙ্গল।’
সিপিএমের যুক্তি অবশ্য, ওই শিশুদের বাবা-মায়েরা পদযাত্রায় হেঁটেছেন। পরিবারের সঙ্গেই কর্মসূচিতে এসেছিল তারা।
কমিউনিস্ট পার্টিতে সাধারণত অনেক ফ্রন্ট থাকে। যেমন যুব, ছাত্র, কৃষক, মহিলা ইত্যাদি। সিপিএমে কিশোর বাহিনী রয়েছে। যা মূলত শিশুদের চারিত্রিক ও শারীরিক বিকাশের কাজ করে। তবে এই শিশু ফ্রন্ট বাংলায় তেমন শক্তিশালী নয়। কেরলে বালাসঙ্গম এ ব্যাপারে অনেক এগিয়ে। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত কান্নুর পার্টি কংগ্রেসেও শিশুবাহিনীকে দেখা গিয়েছিল। তবে বর্ধমানের মিছিল অন্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যৌনকর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার বসিরহাটের যৌনপল্লীতে! আত্মহত্যা না খুন, তদন্তে পুলিশ