দ্য ওয়াল ব্যুরো: চূর্ণী নদীতে স্নান করে যুগল কিশোরকে বরণ। আর তারপর বরণ করে নেওয়া জামাইকে। জামাইষষ্ঠীর দিন এটাই প্রথা নদিয়ার আড়ংঘাটায়। প্রায় তিনশো বছর ধরে চলে আসছে এই প্রথা। যুগলবাড়িকে ঘিরে চূর্ণীর ধারে বসে জমজমাট মেলাও। জামাইষষ্ঠীর ভুরিভোজের কথা সকলেরই জানা। কিন্তু তাই বলে জামাইষষ্ঠীর মেলা, নাহ! এমন বড় একটা শোনা যায় না।
এ বারও চূর্ণী নদীর তীরে জমে উঠেছে মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে মেলা দেখতে ভিড় করছেন মানুষ। শুধু রানাঘাট বা আড়ংঘাটা নয়, আসেপাশের এলাকার নব দম্পতিরাও জীবনের প্রথম জামাইষষ্ঠীতে শ্বশুরবাড়ি এসেই পুজো দিতে এসেছেন যুগল কিশোর মন্দিরে। এটাই দীর্ঘকালের রীতি। মেলা চলে টানা একমাস।
কথিত আছে, নদিয়ায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় ১৭২৮ খ্রিষ্টাব্দে নদিয়ার আড়ংঘাটায় চূর্ণী নদীর তীরে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গঙ্গারাম দাস নামে এক ব্যক্তি নবদ্বীপ থেকে একটি কৃষ্ণ মূর্তি এনে এই মন্দিরে পূজা শুরু করেন। পরবর্তীতে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই মন্দিরে কৃষ্ণের সাথে যোগ ঘটান রাধা মূর্তির। সেই থেকে এটি যুগল কিশোর মন্দির নামে খ্যাত। প্রতিবছরই যুগলবাড়িতে জামাইষষ্ঠীর দিন পুজো দিতে ভিড় জমান বহু মানুষ। জামাইয়ের কল্যাণ কামনা করে পুজো দেন শাশুড়িরা। প্রথমে রাধা-কৃষ্ণকে বরণ করে তারপর চলে জামাই বরণ ।
আড়ংঘাটার বাসিন্দা মঞ্জুলা অধিকারী এসেছিলেন তার মেয়ে জামাইকে নিয়ে। তাঁদের এটা প্রথম জামাইষষ্ঠী , তাঁদের বিশ্বাস এখানে পুজো দিলে দাম্পত্য সুখের হয়। উত্তর আড়ংঘাটায় শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন বারাসতের চাপাডালির বাসিন্দা মলয় দাস। শাশুড়ির সঙ্গে সকাল সকাল তিনিও চূর্ণী নদীর ধারে। দীর্ঘ ১১ বছর ধরে জামাইষষ্টীতে এই মন্দিরে আসেন এলাকার জামাই দেবাশিস দত্তও। একই আশায়। মন্দিরের বর্তমান সেবাইত শ্রীস্বামী অনিরুদ্ধ দাস মোহান্ত জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে এই মন্দিরে পুজো করেন তিনি। জামাইষষ্ঠীর দিনে শাশুড়ির সঙ্গে দম্পতিরা আসেন পুজো দিতে জীবন সুখের হবে এই আশায় । গত পঞ্চাশ বছরে এই রীতির কোনও পরিবর্তন হয়নি।