
শেষ আপডেট: 5 April 2022 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধবা মহিলার টোটো চুরি যাওয়াকে কেন্দ্র করে সালিশিসভা বসেছিল জলপাইগুড়ির মাসকলাইবাড়ি তৃণমূল কার্যালয়ে। সেখানেই দেওয়া তৃণমূল নেতার নিদান মানতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিল এক টোটো চালক (Jalpaiguri Toto Driver)। মৃত যুবকের নাম দেবব্রত সাহা। তিনি জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
জানা যায়, দেবব্রতবাবু আগে এক বয়স্ক বিধবা মহিলার টোটো দৈনিক কিস্তির ভিত্তিতে চালিয়ে উপার্জন করতেন। গত দুর্গাপুজোর সময় সেই টোটোটি চুরি হয়ে যায়। এরপরই সেই বিধবা মহিলা দ্বারস্থ হন তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-এর (INTTUC) টাউন ব্লক সভাপতি পূর্নব্রত মিত্রের কাছে।
সোমবার রাতে দু'পক্ষকে নিয়ে মাসকলাইবাড়ি তৃণমূল কার্যালয়ে একটি সালিশিসভার আয়োজন করেন সেই শ্রমিক নেতা। অভিযোগ, সেখানে নিদান দেওয়া হয় প্রতিমাসে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪০০০ টাকা করে আগামী ১১ মাস ধরে কিস্তি হিসেবে সেই বিধবা মহিলার হাতে দিতে হবে দেবব্রত সাহাকে।
আরও পড়ুনঃ স্কুল বন্ধের নির্দেশ কেন্দ্রের! গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে মিড ডে মিল চালাচ্ছেন শিক্ষকরা
তৃণমূল নেতার নিদান শুনে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। এরপর স্ত্রীকে সব খুলে বলেন। খানিক আলোচনাও করেন কীভাবে এই টাকা পরিশোধ করবেন। এরপর রাতে খাওয়া দাওয়া না সেরেই শুয়ে পড়েন। সকালে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁর স্ত্রী দীপা সাহা। তিনি বলেন, "আমার স্বামী অন্যের টোটো চালিয়ে কোনওরকমে সংসার চালাতো। পার্টি অফিস থেকে বলে দেওয়া হয়েছে মাসে ৪০০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এত টাকা কীভাবে দেবে, সেই চিন্তাতেই আত্মহত্যা করেছে।"
ঘটনায় চাপের মুখে পড়ে তৃণমূলের সেই শ্রমিক নেতা পূর্ণব্রত মিত্র জানিয়েছেন, "হারিয়ে যাওয়া টোটোর মালিক একজন বিধবা মহিলা। পাশাপাশি টোটো চালক দেবব্রত সাহাও একজন দরিদ্র মানুষ। সেই কারণেই দুই পক্ষকে নিয়ে এই সমস্যা মেটানোর জন্য মিটিং ডাকা হয়েছিল। দেবব্রত নিজেই ৪ হাজার টাকা করে দিতে রাজি হয়েছিল৷ সে দিতে না পারলে আমাদের জানানো উচিত ছিল। আমরা নিশ্চয়ই অন্য ব্যবস্থা করতাম।"
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার দেবর্ষি দত্ত জানিয়েছেন, সালিশিসভা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। কিন্তু আমাদের কাছে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। মৃতের পরিবারের তরফে অভিযোগ এলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে৷"