
শেষ আপডেট: 31 March 2024 20:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৫ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়। আর তাতেই লন্ডভন্ড হয়ে যায় জলপাইগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা। এখনও পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় গাছ উপড়ে পড়েছে। অসংখ্য বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাটিতে দু:খ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝড়ে বিধ্বস্ত জলপাইগুড়ির উদ্দেশে রাতেই রওনা হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখবেন তিনি।
উত্তরবঙ্গে দু-তিনদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। রবিবার বেলা সাড়ে ৩ টে নাগাদ জলপাইগুড়ি জেলায় ব্যাপক কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। ময়নাগুড়িতে ৫০০ গ্রাম ওজনের শিল পড়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীদের। মাত্র কিছুক্ষণের ঝড়ের তাণ্ডবে জলপাইগুড়ি সদর ব্লক, ময়নাগুড়ি ব্লকের বেশ কিছু এলাকায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ঝড়ের সময়েই জলপাইগুড়ির সুকান্ত নগর এলাকায় গাছ চাপা পড়ে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঝড়ের সময় দিজেন্দ্র নারায়ণ সরকার নামে ওই ব্যক্তি গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আচমকা তাঁর মাথার উপর গাছ ভেঙে পড়ে। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা দিজেন্দ্র।
অপর এক মৃতের নাম অনিমা মণ্ডল। বছর ৪৮-এর ওই মহিলার বাড়ি জলপাইগুড়ি পাহাড় পুর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঝড়ের সময়ে তিনি টোটো চাপা পরে মারা গিয়েছেন। দুজনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঝড়ের তাণ্ডবে আরও দুই মৃত ব্যাক্তির নাম যোগেন রায় (৭০) এবং সমর রায় (৬৪)।
ঘটনাটিতে দু:খ প্রকাশ করে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, "হঠাৎ ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝড়ো হাওয়ায় আজ বিকেলে জলপাইগুড়ি-ময়নাগুড়ি এলাকায় বিপর্যয় নেমে আসে। মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, আহত হয়েছেন বহু মানুষ, ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়েছে।"
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জেলা ও ব্লক প্রশাসন, পুলিশ, ডিএমজি এবং কিউআরটি দল বিপর্যয় মোকাবিলায় কাজ করছে। ত্রাণ সরবরাহ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন নিয়মানুযায়ী এবং লোকসভা ভোটের আদর্শ আচরণ বিধি অনুসরণ করে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্ত ব্যবস্থা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
Sad to know that sudden heavy rainfall and stormy winds brought disasters today afternoon in some Jalpaiguri-Mainaguri areas, with loss of human lives, injuries, house damages, uprooting of trees and electricity poles etc.
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) March 31, 2024
District and block administration, police, DMG and QRT…
স্থানীয় সূত্রের খবর, ঝড়ের তাণ্ডবে জলপাইগুড়ি-ময়নাগুড়ি এলাকায় প্রচুর বাড়ি ভেঙে গিয়েছে, ঝোড়ো হাওয়ায় চাল উড়ে গেছে। বিদ্যুতের তারের উপর গাছ পড়ে গোটা এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। আহত হয়েছেন ২০০-র বেশি মানুষ।
ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ৬০ জনের বেশি মানুষ ভর্তি রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে জরুরি ভিত্তিতে ময়নাগুড়ি হাসপাতালে ডাক্তার পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন জলপাইগুড়ি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার অসীম হালদার। প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ময়নাগুড়ি ও জলপাইগুড়ি হাসপাতালে রাতেই আহতদের দেখতে আসছেন গৌতম দেব।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর এদিন উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আহতদের দেখতে সোমবার বিকেলে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
এদিন ঝড়ের পর উদ্ধারে নামে পুলিশ, দমকল। বিভিন্ন ব্লকের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আসেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা। জলপাইগুড়ি শহরে ঝড়ের পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেমেছে পৌরসভা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন জলপাইগুড়ি পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। এসেছেন পৌরসভার আধিকারিকেরা।