
চা বাগানে নাবালিকাকে ধর্ষণ, দোষীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিল আদালত- প্রতীকী
শেষ আপডেট: 30 August 2024 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: আরজি করের দোষী শাস্তি নিয়ে সবর গোটা দেশ। অলি-গলি এখন শুধুই উই ওয়ান্ট জাস্টিস স্লোগান। এদিকে ধর্ষণের সাজা ফাঁসি করা হোক তাই নিয়ে সবর হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও। এমন পরিস্থিতির মধ্যে একটি ধর্ষণের মামলায় ঐতিহাসিক রায় শোনাল জলপাইগুড়ি জেলা পকসো আদালত। দোষীকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিলেন বিচারক। ময়নাগুড়ির এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের দায়েই এই রায়।
অভিযুক্ত যুবকের নাম তারিফুল ইসলাম (২৩)। শুক্রবার জলপাইগুড়ি পকসো আদালতের বিচারক ইন্দুবর ত্রিপাঠি এই নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অনাদায়ের আরও এক বছরের জেলের নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসের ঘটনা। ঘটনার দিন বিকেলে ওই নাবালিকা তার ভাই ও অন্যান্য বন্ধুদের নিয়ে স্থানীয় একটি চা বাগানে ফুল তুলতে গিয়েছিল। সেইসময় ওই যুবক তাদের পিছু নেয়। কিছুক্ষণ পরে ওই যুবক বাগান মালিক এসেছে, বলে চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকার শুনে ভয়ে ছুটে পালাতে থাকে নাবালিকা ও তার সঙ্গীরা। ওই সুযোগে নাবালিকাকে চা বাগানের ভেতর টেনে নিয়ে যায় তারিফুল।
অপরদিকে ওই যুবক দিদিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে দেখে বাড়িতে তার মাকে গিয়ে জানায় নাবালিকার ভাই। তাকে সঙ্গে নিয়ে মেয়ের খোঁজে বাগানে পৌঁছন তার মা। মেয়ের নাম ধরে ডাকাডাকি করতে থাকলে অভিযুক্ত পালিয়ে যাচ্ছে বলে তার দেখতে পায়।
নাবালিকার মা চা বাগানের ভেতরে গিয়ে দেখেন মেয়ে অচৈতন্য অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে। সেখান থেকে ময়নাগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসক জানিয়ে দেন ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তাকে জলপাইগুড়ি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল ওই নাবালিকা। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পক্সো আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে মামলা চলার পর শুক্রবার মামলার রায় দিল আদালত।
সরকার পক্ষের আইনজীবী দেবাশীষ দত্ত জানিয়েছেন, ২০২০ সালে পকসো আইনের কিছু পরিবর্তন করার পরে এই প্রথম জেলা আদালতে ২৫ বছরের জন্য কারাদন্ড দেওয়া হল। একইসঙ্গে বিচারক ওই নাবালিকা ও তার পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য জেলা লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় মোট ৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল। সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখেই এদিন বিচার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে এই সাজা শুনিয়েছেন বিচারক। সমস্ত বাধাবিপত্তি কাটিয়ে নাবালিকা এখন নবম শ্রেণির ছাত্রী। আদালতের রায়ে খুশি নাবালিকার পরিবার।
আসামী পক্ষের আইনজীবী অভিনন্দন চৌধূরী জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরোধিতা করে তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।