দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্নীতি দূর করতে সক্রিয় হয়েছিলেন তিনি। সক্রিয় হয়েছিলেন নিয়ম-নীতি বহাল করতে। সেই 'অপরাধে' শাসকদল ঘনিষ্ঠ পুলিশকর্তাদের রোষের মুখে তাঁকে পড়তে হল বলে অভিযোগ। জলপাইগুড়ির মালবাজার থানার ওসি অসীম মজুমদারকে আচমকাই বদলি করে দেওয়া হয় ওদলাবাড়ি। এবং সেই ঘটনার জেরে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।
সূত্রের খবর, যত গন্ডগোলের সূত্রপাত হয় বালিখাদান নিয়ে। যার নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের শাসক দলের এক নেতা। তাঁর কারণেই জেলার বিভিন্ন বালিখাদানের রেট নিয়ে নানা অসঙ্গতি শুরু হয়। সে সব নিয়েই বিভিন্ন নির্দেশ জারি করেছিলেন ওসি অসীম মজুমদার। অভিযোগ, অসীমবাবুর এই উদ্যোগই পছন্দ হয়নি উপরমহলের।
জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের তরফে জানা গেছে, শনিবার রাতে অ্যাডিশনাল এসপি (গ্রামীণ) থেন্ডুপ ভুটিয়ার কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন অসীম মজুমদার। ইস্তফার কারণ সম্পর্কে নিজে কিছুই জানাননি তিনি।
তবে অসীম-ঘনিষ্ঠরা বলছেন, গজলডোবায় তিস্তার একটি বালি খাদানের ই-টেন্ডার হয় কয়েক দিন আগে। কলকাতার একটি মাইনিং গোষ্ঠী-সহ প্রায় ১৩টি সংস্থা বালি তোলার বরাত পায়। একটি সংস্থা শাসক দলের এক প্রভাবশালী নেতার।
ভূমি রাজস্ব দফতরের ঠিক করে দেওয়া রেট এবং স্থানীয় লরি চালক সংগঠন ও শ্রমিক সংগঠন মিলে ঠিক করা আনুষঙ্গিক খরচ অনুযায়ী গোটা জলপাইগুড়ি জেলায় ২০০ কিউবিক ফুট বালির রয়্যালটি মূল্য ৭০০ টাকা ধরা হয়। কিন্তু কলকাতার ওই বিশেষ মাইনিং সংস্থাটি বরাত পাওয়ার পরেই রয়্যালটির টাকা ৭০০ থেকে বাড়িয়ে ১৩০০ করে দেয়। রীতিমতো সিন্ডিকেট চালাতে শুরু করে তারা। এর ফলে স্বাভাবিক ভাবেই শুরু হয় অশান্তি।
জানা যাচ্ছে, এই অবস্থায় ওসি অসীম মজুমদার খাদানমালিক ও ইজারাদারদের অনুরোধ করেন, যা সাধারণ রেট, সে রেটেই কাজ করতে এবং করাতে। সবাই মেনে নিলেও কলকাতার ওই মাইনিং সংস্থাটি রাজি হয়নি। উল্টে তাদের বিরাগভাজন হন ওসি অসীম মজুমদার।
অভিযোগ, এর পরেই ওই সংস্থার সঙ্গে যে নেতার নাম জড়িয়ে, তাঁর তরফে জেলার পুলিশ সুপার অভিষেক মোদীকে বার্তা দেওয়া হয় এই বিষয়ে। এর পরেই তাঁর নির্দেশে অ্যাডিশনাল এসপি (গ্রামীণ) থেন্ডুপ ভুটিয়া অসীমবাবুকে ওদলাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে বদলির নির্দেশ দেন।
অসীমবাবু তাঁর ঘনিষ্ঠদের কাছে অভিযোগ করেছেন, এই বদলি অন্যায্য। তিনি কোনও অন্যায় করেননি, যার জন্য তাঁকে এভাবে বদলি হতে হবে প্রান্তিক জায়গায়। এই বদলি আদতে শাস্তি, যা তিনি মেনে নিচ্ছেন না।
গোটা বিষয়টিতে অপমানিত বোধ করেই তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। তবে এ বিষয়ে জেলা পুলিশের তরফে আর কারও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।