
শেষ আপডেট: 26 September 2023 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ফাঁকা সিরিঞ্জ একে অপরের শরীরে ঢুকিয়ে চলত ইঞ্জেকশন দেওয়ার তালিম। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনলেন জলপাইগুড়ির দিশারি নার্সিং ট্রেনিং স্কুলের পড়ুয়ারা (Jalpaiguri Nursing Training School)।
এই নার্সিং স্কুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দ্বারস্থ হলেন ছাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ, নার্সিং ট্রেনিং স্কুলের কর্ণধার শান্তনু শর্মা ভুয়ো সার্টিফিকেট দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মোটা টাকা হাতিয়েছেন। মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরা।
গত কয়েক বছরে কয়েকশো ছেলেমেয়েকে এই সেন্টার থেকে নার্সিংয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের ভুয়ো সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়ায় এমন অভিযোগ ওঠার পরেই ১৯ তারিখ ওই ইন্সটিটিউটে অভিযান চালিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয় জলপাইগুড়ি জেলা স্বাস্থ্য দফতর। এই খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পরেই প্রশিক্ষণ নেওয়া ছাত্রীরা অভিযোগ নিয়ে সামনে আসতে থাকেন তাঁরা।
পিঙ্কি রায় নামে এক ছাত্রী বলেন, “আমাদের একে অপরের শরীরে ফাঁকা ইঞ্জেকশন পুশ করিয়ে ইঞ্জেকশন এর তালিম নিতাম। প্রেশার মাপাও শেখানো হত। ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আমি দিশারি নার্সিং ট্রেনিং স্কুলে তিনমাস ট্রেনিং নিয়েছি। তিনমাস পর আমাকে বলা হয় আমি চাইলে সার্টিফিকেট নিতে পারি। কিন্তু তার জন্য আরও পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে। সেই টাকা দেই। এরপর সার্টিফিকেট নিয়ে নার্সিংহোমে গেলে আমাকে বলা হয় এটা ভুয়ো সার্টিফিকেট। এরপর আমরা খবরে দেখতে পাই ওই সেন্টার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই এখন জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলাম।”
ছাত্রীরা জানান, তিন বছর আগে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে নাসিং ট্রেনিং নিয়েছিলেন। এরপরে সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য আরও পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত না পেলে তাঁরা আইনের দ্বারস্থ হবেন। শান্তনু শর্মা ফোন না ধরলেও হোয়াটস অ্যাপে জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ মিথ্যে। তাঁরা পুতুলের ওপর ইঞ্জেকশন প্রয়োগ ও সেলাই করা শেখাতেন। করোনার সময় আক্রান্তদের বাড়িতে অক্সিজেন, খাবার, ওষুধ ইত্যাদি পৌঁছে প্রচারের আলোয় এসেছিলেন জলপাইগুড়ির দম্পতি। তাঁদেরই নার্সিং ট্রেনিং স্কুল দিশারিকে ঘিরে পরের পর অভিযোগে রীতিমতো সাড়া পড়ে গিয়েছে জলপাইগুড়ি শহরে।
আরও পড়ুন: পুলিশকর্মীর নজর পড়তেই ভেস্তে গেল শোরুমে ডাকাতির ছক! জালে ধরা পড়ল দুজন