
প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 25 April 2024 11:50
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন মারামারিতে। তারপর থেকে গত বছর চারেক বন্দি ছিলেন কেরলের জেলে। ভাষা সমস্যায় যোগাযোগও করতে পারেননি পরিবারের সঙ্গে। বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তা দিয়ে জলপাইগুড়ির দীপক রায়কে বাড়ি ফিরিয়ে আনলেন সিপিএমের আইনজীবীরা। ঘরে ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ওই পরিযায়ী শ্রমিক।
বাংলায় কাজ না পেয়ে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যান এই রাজ্যের বহু যুবক। তাঁদের অনেকেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মারা যান। কেউ আবার নানা ঘটনায় আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েন। তেমনই অভিজ্ঞতার শরিক হলেন দীপক। রাজগঞ্জ ব্লকের কুকুরযান গ্রামপঞ্চায়েতের বাসিন্দা দীপক একজন দক্ষ মার্বেল মিস্ত্রি। এখানকার তুলনায় অনেক বেশি মজুরি পাওয়ার আশায় বাড়িতে মা ও বোনকে রেখে বছর দশেক আগে কেরলে চলে যান এই নির্মাণ শ্রমিক।
হাতের কাজ খুব ভাল থাকায় সেখানে কাজও পেয়ে যান। কাজকর্ম করে বাড়িতে বৃদ্ধ মায়ের কাছে টাকা পাঠাতেন। সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছিল। বোন উপযুক্ত হয়ে যাওয়ায় তাঁর বিয়ে দেন। মোটের উপর সব ভালই চলছিল। কিন্তু বছর চারেক আগে কেরলেই কয়েকজন শ্রমিকদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন দীপক। মারামারি হয়। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে এসে দীপককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর জেলে যান তিনি।
তারপরেই ছন্দপতন। ভাষাগত সমস্যায় জেল থেকে কোনওভাবেই আর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এইভাবে ৩ বছর কেটে যায়। বাড়ির লোকজন জানতেন না দীপক কোথায় আছে। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। দীপক রায়ের মা চা শ্রমিক। তিনি রাজগঞ্জ ব্লকের একটি চা বাগানে কাজ করেন। দীর্ঘদিন ছেলের খোঁজ না পেয়ে চা বাগানে কাজ করার ফাঁকে তিনি একদিন যোগাযোগ করেন জলপাইগুড়ির সিটু নেতা কৃষ্ণ সেনের সাথে। কৃষ্ণবাবু বিষয়টি সিটুর জেলা সম্পাদক, সর্বভারতীয় নেতা জিয়াউল আলমকে খুলে বলেন। কেরলের সিপিএম সাংসদ করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জিয়াউল আলম। তারপরেই কেরলের সিপিএম নেতারা খোঁজ শুরু করে জানতে পারেন দীপক জেলে আছে।
এরপর কেরলের স্থানীয় সিপিআই(এম) নেতৃত্বের কথায় কেরলের আইনজীবীরা দীপক রায়ের হয়ে আইনি লড়াই করে তাকে জেল থেকে মুক্ত করেন। দীর্ঘ চারবছর পর জলপাইগুড়িতে নিজের ভিটেয় ফিরলেন দীপক রায়। বুধবার বোন ও বোনের বরকে নিয়ে সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা কার্যালয়ে আসেন দীপক। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া হলে কেঁদে ফেলেন ওই নির্মাণ শ্রমিক।
দীপক বলেন, "গত প্রায় চারবছর বাড়ির লোকের সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ ছিল না। আমার মা সিটু নেতা কৃষ্ণ সেনের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর কেরলের সিপিএম নেতারা আমার সাথে জেলে যোগাযোগ করেন। আইনজীবী ঠিক করে দেন। বিনা পারিশ্রমিকে আমার হয়ে মামলা লড়ে আমাকে মুক্ত করেন তাঁরা। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আমি গত ৯ এপ্রিল মুক্তি পাই। এরপর বুধবার জলপাইগুড়ি আসি। আমার পাশে থাকার জন্য শ্রমিক নেতাদের পুষ্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে গেলাম। অসুস্থ মায়ের কাছে ফিরতে পেরে যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি। এঁদের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।"
কৃষ্ণ সেন বলেন, "বছরখানেক আগে রাজগঞ্জের একটি চা বাগানে বৈঠক করতে গিয়েছিলাম। সেখানেই দীপকের মা আমার সাথে যোগাযোগ করে সব খুলে বলেন। আমাদের কাছে সাহায্য চান। এরপর আমি আমাদের রাজ্য নেতাদের সাথে যোগাযোগ করি। রাজ্যের শ্রমিক নেতারা কেরলের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করে বিনামূল্যে আইনি লড়াই শুরু করেন। অবশেষে মামলা জিতে দীপককে মুক্ত করেন তাঁরা।"