
শেষ আপডেট: 5 March 2024 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: হাত-পা, এমনকী রোগের কারণে বিকৃত নাক-মুখও। সমাজে আর পাঁচজনের সামনে সেই চেহারা কোথায় লুকোই ভেবেই দিশেহারা! শরীরে যে বাসা বেঁধেছে কুষ্ঠরোগ। এই কুণ্ঠা থেকেই এবার কুষ্ঠরোগীদের মুক্তি দিলেন একদল সরকারি ডাক্তার। জটিল অস্ত্রোপচার করে একাধিক কুষ্ঠরোগীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পুনর্গঠন করলেন তাঁরা। মুখে ফোটালেন হাসি।
সময়মতো চিকিৎসা না হওয়ায় অঙ্গবিকৃতির শিকার হয়েছিলেন যে কুষ্ঠরোগীরা, তাঁদের মধ্যে ২৮ জনকে চিহ্নিত করে তাঁদের অপারেশন করা হয়। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা তাঁরা। অঙ্গহানির পর হারিয়ে ফেলেছিলেন কর্মক্ষমতাও। এই মানুষগুলিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে রিকন্সট্রাকটিভ সার্জারির ব্যবস্থা করল স্বাস্থ্য দফতর। এরজন্য জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দু'দিনের শিবির আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রথম দিন ১৮ জন রোগীর রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি করেন আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ থেকে আসা আটজনের মেডিক্যাল টিম। নেতৃত্বে ছিলেন প্লাস্টিক সার্জারির ক্ষেত্রে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার রূপনারায়ণ ভট্টাচার্য।
মালবাজারের বাসিন্দা এক রোগীর আত্মীয় জানালেন, তাঁর পিসির হাত ও পায়ের আঙুলে সমস্যা। আঙুলগুলো ক্ষয়ে গেছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে তাঁদের এখানে পাঠানো হয়। এক রোগী নিজে জানালেন, তিনি কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত। তাঁকে অপারেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তারবাবু। বাইরে অপারেশন করা ব্যয় সাপেক্ষ। তাই তিনি হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছেন।
ডাক্তার রূপনারায়ণ ভট্টাচার্য বলেন, "কুষ্ঠ আক্রান্তরা প্রায়শই সামাজিক লাঞ্চনার শিকার হন। রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি হচ্ছে পুনর্গঠন। এই সার্জারির মাধ্যমে কুষ্ঠ রোগীরা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবেন। আবার কর্মক্ষমতা ফিরে পাবেন। তাদের আর লাঞ্চিত হতে হবে না।" তিনি জানান, ২০০৫ সাল থেকে রাজ্যের চারটি জেলায় সার্জিক্যাল শিবির করে কুষ্ঠ রোগীদের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করে চলেছেন তারা।
স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিক ডাক্তার সৌমিত্র প্রামাণিক জানান, রাজ্যের চার জেলায় বছরে গড়ে ১০০ জন কুষ্ঠ আক্রান্তকে এই জাতীয় অপারেশনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, মালদা ও জলপাইগুড়ি এই চার জায়গায় ক্যাম্প করে এই অপারেশন করা হয়। যারা এখানে আসেন তাঁদের কোনও খরচ দিতে হয় না। উল্টে স্বাস্থ্য দফতর তাঁদের ১২০০০ টাকা করে খরচ দেয়। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার অসীম হালদার বলেন, "কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে যাদের হাত,পা, চোখ নষ্ট হতে বসেছে এমন রোগীদেরই এদিন অপারেশন করা হল।"