
শেষ আপডেট: 7 October 2023 09:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিস্তার চড়ায় ক্ষতবিক্ষত পড়েছিল বার্মিজ পাইথন। সারা শরীরে তার পেঁচিয়ে রক্তাক্ত ছিল সে। প্রাণটা ধুকপুক করছিল কোনওরকমে। রক্তাক্ত পাইথনকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধার করে নিয়ে যায় পরিবেশবিদ, পশু চিকিৎসকের কাছে। তারপরেই শুরু হয় জীবন মরণ লড়াই। পাইথনটিকে পরিষ্কার করে অপারেশন করে প্রাণ বাঁচান জলপাইগুড়ির পরিবেশ কর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী।
বিশ্বজিৎবাবু জানিয়েছেন, তিস্তার বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সব। মানুষের সঙ্গে পশুদেরও উদ্ধার করা হচ্ছে। বার্মিজ পাইথনটাকে যখন তাঁর কাছে নিয়ে আসা হয় সেটির তখন ছিল মৃতপ্রায়। সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত, কেটেছিঁড়ে গিয়েছিল। অত বড় পাইথনকে পরিষ্কার করে তার অপারেশন করা সহজ ব্যাপার নয়। অনেক চেষ্টার পর বাঁচানো গিয়েছে সেটিকে। সারা শরীরে ২০টা সেলাই পড়েছে। পাইথনটি এখন সুস্থ আছে।
সিকিমে মেঘ ভাঙা বৃষ্টির জলের তোড় পাহাড় থেকে সমতলের প্রচুর এলাকার বাড়িঘর, গাছ পালা, ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। সর্বগ্রাসী তিস্তা দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়েছে আস্ত জনপদের উপরে। তছনছ, লন্ডভন্ড করছে সবকিছু। একের পর এক প্রাণ যাচ্ছে মানুষজনের। জলে তলিয়ে যাচ্ছে মানুষ, পশু। নিখোঁজ শতাধিক। তাদের কাউকে উদ্ধার করা যাচ্ছে, কেউ আবার তলিয়ে যাচ্ছে ফুঁসতে থাকা তিস্তার অতলে। তেমনই একটি ক্ষতবিক্ষত বার্মিজ পাইথনকে উদ্ধার করা হয়েছে তিস্তার মন্ডলঘাট গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায়।
শুক্রবার দুপুরে জলপাইগুড়ির পরিবেশ কর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরীর কাছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের মন্ডল ঘাট গ্রামপঞ্চায়েতের তাঁতি পাড়া এলাকার এক বাসিন্দা ফোন করে জানান তিস্তা নদীর মাঝ চড়ে একটি পাইথন চাপা পড়ে আছে। সাপটির সারা শরীরে তার জড়িয়ে গেছে। ক্ষতবিক্ষত হয়ে সেটি মৃতপ্রায়। খবর পেয়ে আর দেরি করেননি বিশ্বজিৎবাবু। বাঁধ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার জল কাদা পেরিয়ে গিয়ে সাপটিকে উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি পশু হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ঝুঁকি নিয়ে সেটিকে বাঁচান। তারপর পশু হাসপাতালে নিয়ে এসে অপারেশন করেন। ঘণ্টাখানেক ধরে সাপটিকে স্নান করিয়ে পরিষ্কার করানো হয়। তারপর দেড়ঘণ্টার অপারেশন হয়। সুস্থ হয়ে ওঠে পাইথন।
বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী বলেছেন, “খবর পেয়ে আমি আর দেরি করিনি। সঙ্গে সঙ্গে বাইক নিয়ে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি প্রায় নয় ফুট লম্বা একটি বার্মিজ পাইথন। তার গায়ে তার পেচিয়ে থাকায় প্রচণ্ড ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। এরপর আমি সাপটিকে নিয়ে পশু হাসপাতালে আসি। সাপটিকে দেখেই ডাক্তারবাবু প্রথমে ভালভাবে ওয়াশ করেন। এরপর তার শরীরের ক্ষতস্থানে একের পর এক সেলাই দিতে থাকেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন। কিছুক্ষন পর সাপটি সুস্থ হয়ে ওঠে। এরপর আমি সাপটিকে বনদফতরের হাতে তুলে দিই।“
জলপাইগুড়ি পশু হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার রাজেশ্বর সিং বলেন, “সাপটিকে ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি তার চামড়ায় কুড়িটি সেলাই করা হয়েছে। ডাক্তারবাবু বলছেন, কোথাও যদি কোনও বন্যপ্রানীকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান তবে আমাদের খবর দিন। আমরা ব্যবস্থা নেব।“
চিকিৎসার পরে এখন পাইথনটিকে গরুমারা প্রকৃতি বিক্ষন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। গরুমারা ওয়াইল্ড লাইফ ডিভিশনের এডিএফ ও জন্মেঞ্জয় পাল জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলে পাইথনটিকে তার উপযুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে।