দ্য ওয়াল ব্যুরো , পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম : এক সময় জঙ্গলমহলে সংগঠনের দায়িত্ব ছিল তাঁরই কাঁধে। পরে সেই ভার দেওয়া হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এ বার আদিবাসী আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা হুল দিবসের একাধিক সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে ফের যেন কাঁধ বদলের ইঙ্গিত পাচ্ছেন জঙ্গলমহলের মানুষ। সভার ভিড়েও এ দিন রাজ্যের আরেক মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে টেক্কা দিয়েছেন শুভেন্দু।
পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে হুলদিবসের একটি অনুষ্ঠান হয়। ঝাড়গ্রামে দুটি সরকারি অনুষ্ঠান ছিল যথাক্রমে ঝাড়গ্রামের কেচন্দা ও কুলটিকরিতে। সবং ও কুলটিকরির সভায় উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু। পার্থ ছিলেন কেচন্দার সভায়। হুল দিবসের এই সরকারি অনুষ্ঠান ঘিরে জঙ্গলমহলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে আগেই। আদিবাসীদের সর্বোচ্চ সামাজিক সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের নেতা নিত্যানন্দ হেমব্রম ও রবিন টুডুরা জানিয়ে দিয়েছিলেন শিলদায় তাঁরা হুল দিবস পালন করবেন। এবং এই অনুষ্ঠানেই যোগ দেবেন সংখ্যাগরিষ্ঠ আদিবাসী। সদ্য তৈরি হওয়া আদিবাসী সামাজিক সংগঠন ভারত দিসম মাঝি মাড়ওয়া অবশ্য সরকারি অনুষ্ঠান সফল করতে ময়দানে নামে।
এ দিন শিলদায় জাকাত মাঝির সভায় ভিড় ছিল নজরকাড়া। এই নিরিখে বেশ পিছিয়ে ছিল সরকারি অনুষ্ঠানগুলি। তারই মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর দু'টি সভাতেই প্রায় হাজার দশেক করে মানুষের জমায়েত হয়। সবং এর সভায় শুভেন্দু বলেন, "২০০৭ সাল থেকে বাঁকুড়া, অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় এই দিনটি পালনে আমি সামিল হই। সেই ধারাই বজায় রাখতে চাই।" পঞ্চায়েত ভোটের ফল প্রকাশের পরে জঙ্গলমহলে সংগঠন নিয়ে প্রবল চাপে তৃণমূল। তাই আদিবাসীদের কাছে টানার লক্ষ্যে প্রশাসনিক, সাংগঠনিক সবদিকেই ঘর গোছানোর ব্যস্ততা। শুভেন্দুর সভায় মানুষের ভিড় কিছুটা অন্তত নিশ্চিন্ত করল রাজ্যের শাসক দলকে।