
শেষ আপডেট: 20 May 2023 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: জন্মের সময় থেকেই দু'টি হাত খর্বকায়। সেই হাতে তালু নেই, নেই আঙুলও। তাতে কী! দু চোখে যে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন। পা দিয়েই লেখে মেমারি থানার সিমলা গ্রামের জগন্নাথ মাণ্ডি (Jagannath)। পা দিয়ে লিখেই এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হল সে (passed Madhyamik by writing with foot)।
শুক্রবার মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হওয়ার পর জগন্নাথ জানতে পারে ২৫৮ নম্বর পেয়ে পাশ করেছে সে। দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের বিশেষ ভাবে সক্ষম এই ছাত্রের সাফল্যকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। পরিবারসূত্রে জানা গেছে, ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জন্মেছে জেনে ছোটবেলাতেই তাকে ছেড়ে চলে যায় মা। তবে বাবা, বৃদ্ধা ঠাকুমা আর পিসি পরম স্নেহে আগলে রেখেছিল তাকে। তার পড়াশোনার ব্যাপারেও যত্নশীল ছিলেন তাঁরা।
গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই পা দিয়ে বাংলা লেখা রপ্ত করতে শুরু করে জগন্নাথ। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পা দিয়ে লেখাতে সাবলীল হয়ে ওঠে। প্রাথমিকের পাঠ শেষ করে মেমারির নুদীপুর ভূপেন্দ্র স্মৃতি বিদ্যামন্দিরে ভর্তি হয় সে। সেখান থেকেই জগন্নাথ এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল।
স্কুলের প্রধানশিক্ষক কিশোর ঘোষাল বলেন, “জগন্নাথ খুব ভালো ছেলে। লেখাপড়ার ব্যাপারে যেমন সচেতন, তেমনই ওর ব্যবহার মুগ্ধ করে স্কুলের সমস্ত শিক্ষক ও সহপাঠীদের। ওদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। অনেক কষ্টের মধ্যেই লেখাপড়া করছে ও।”
স্কুলের অন্য শিক্ষকরা জানান, ভালো ফুটবল খেলার পাশাপাশি জগন্নাথ পা দিয়ে খুব সুন্দর ছবিও আঁকে। তার যাতে অসুবিধা না হয় তাই বিশেষ বেঞ্চেরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক পাশ করে খুশি জগন্নাথ জানায়, অন্য ছাত্রদের মত একাধিক বিষয়ে প্রাইভেট টিউটর নেওয়ার সামর্থ্য তার ছিল না। একজন প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়ত সে। তবে স্কুলের শিক্ষকদের কাছে সবরকম সাহায্য পেয়েছে। এখন পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই তার লক্ষ্য (wants to be a teacher)।
২ বছর ধরে ৩ ডজন ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহ শিক্ষকের! শেষমেষ রুখে দাঁড়াল ছাত্রীরা, তারপর…