দ্য ওয়াল ব্যুরো: গোটা চন্দননগর জুড়ে চাউর হয়ে গিয়েছিল, ‘এ বার জগদ্ধাত্রী বিসর্জনেও হবে কার্নিভাল।’ অত্যুৎসাহী কেউ কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখে ফেলেছিলেন, ‘এ বার স্ট্র্যান্ড (গঙ্গার ধার) হবে রেড রোড।’ কিন্তু বারোয়ারিগুলির রাজি না হওয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ, ঠাকুর জলে পড়ার আগেই জল ঢেলে দিল কার্নিভালে।
দিন কয়েক ধরেই চন্দননগরের হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছিল জগদ্ধাত্রী কার্নিভালের কথা। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের তথ্য সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এই পরিকল্পনা নিয়েছিলেন বলে জনমানসে চাউর হয়ে যায়। ভদ্রেশ্বর, মানকুণ্ডু, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর কেন্দ্রীয় কমিটির কর্তারাও নিজেদের মধ্যে বৈঠক সেরে ফেলেন। সূত্রের খবর, সরকারি নির্দেশিকা না হলেও চন্দননগর কমিশনারেটের শীর্ষ আধিকারিকরা মৌখিকভাবে পুজো কমিটির কর্তাদের কার্নিভালের কথা বলেন। তখনই শুরু হয় বিরোধিতা। কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক শুভজিৎ সাউ বলেন, “চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী বিসর্জনের একটা ঐতিহ্য আছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ শুধু বিসর্জনের শোভা যাত্রা দেখতেই শহরে আসেন। হঠাৎ করে কার্নিভাল হলে ঐতিহ্য তো নষ্ট হবেই, সঙ্গে আঘাত পড়বে শহরের মানুষের ভাবাবেগেও।”
সোমবার চন্দননগর পুর নিগমের ‘স্বাগতম’ হলে সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা ছিল মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের। কিন্তু তা বাতিল হয়ে যায়। অনেকের মতে, সোমবারই হয়তো সরকারিভাবে ঘোষণা করতেন। কিন্তু জনতার মনোভাব আন্দাজ করে আর সে দিকে এগোননি মন্ত্রী।
কার্নিভালের ব্যাপারে কথা বলার জন্য ‘দ্য ওয়াল’-এর তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘এ ব্যাপারে যা বলার, চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার বলবেন।’ যোগাযোগ করা হয় পুলিশ কমিশনার অজয় কুমারের সঙ্গেও। তিনি বলেন, “যেমন ভাবে এত বছর ধরে হয়ে আসছে, সেই ট্র্যাডিশন মেনেই বিসর্জন হবে। নতুন করে কিছু হচ্ছে না।’ কিন্তু কেন এই পরিকল্পনা ভেস্তে গেল? অনেকে বলছে শাসক দলের ভিতরকার দ্বন্দ্বই এর কারণ। পুলিশ কমিশনারের জবাব, “এ ব্যাপারে আমি কোনও মন্তব্য করব না।”
সোমবার চুঁচুড়া বড় বাজার এবং চন্দননগর কুণ্ডুঘাট দালানের পুজো উদ্বোধনে গিয়েছিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বছর জগদ্ধাত্রী পুজোয় মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই বলেই মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত খবর।
কিন্তু এই কার্নিভাল বন্ধেও শাসক দলের ভিতরকার দ্বন্দ্বের কথা উঠে আসছে দলীয় নেতাদের মুখেই। জেলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জগদ্ধাত্রী পুজোর কেন্দ্রীয় কমিটি যাঁদের হাতে, তাঁরা ইন্দ্রনীলবাবুর বিরুদ্ধ গোষ্ঠী। তাঁরাই আসল কলকাঠি নেড়েছেন বলে মন্ত্রী ঘনিষ্ঠদের অনেকের মত। চন্দননগরের শাসক দলের এক নেতার কথায়, “এই দ্বন্দ্ব তো সেই ষোলর ভোট থেকে শুরু। নাহলে কি আর এই বাজারে ইন্দ্রনীল সেনকে কেঁদে-ককিয়ে জিততে হয়!”