
শেষ আপডেট: 16 August 2023 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: এগরার (Egra) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তার উপরে রয়েছে তাপস কামিল্যার তিনতলা বাড়ি। সোনার গয়নার দোকান। এই সোনা ব্যবসায়ীর ছেলে সপ্তক কামিল্যাকে এগরা এই বাড়ি থেকেই মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) প্রাক্তনী হলেন সপ্তক (Student)। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র।
দোকানের এক কর্মচারী জানান, পরশু অর্থাৎ মঙ্গলবার সপ্তক বাড়িতে ফিরেছিল। তবে তাঁর বাবা-মা বাড়িতে নেই। বাইরে গেছেন। একাই ছিল সে। শুনলাম বিকেল পাঁচটা-ছটা নাগাদ পুলিশ এসেছিল। তাঁরা সপ্তককে নিয়ে গেছে।
ওই কর্মচারী আরও জানান, সপ্তক খুবই নম্র ও ধীর স্বভাবের ছেলে। তিনি মনে করেন এই ঘটনার সঙ্গে সে জড়িত থাকতে পারে না।
এই ঘটনা নিয়ে সপ্তকের জ্যাঠতুতো দাদা সৌরেন্দ্র কামিল্যার জানান, এই ঘটনা নিয়ে তাঁরা তেমন কিছুই জানেন না। টিভি দেখে বিষয়টি জেনেছেন। সপ্তককের সঙ্গে তেমন কোনও ঘনিষ্ঠতাই নেই তাঁদের। বাড়িতে এলে টুকিটাকি কথাবার্তা হত। মঙ্গলবার পুলিশ যখন সপ্তককে নিয়ে যায় সেটা তিনি টের পাননি। ভাই হিসাবে যতটুকু সপ্তককে দেখেছেন তাঁকে ভালো ছেলে মনে হোত।
পাড়া প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বহু দিন ধরেই পড়াশোনার সূত্রে কলকাতায় থাকেন সপ্তক। বাড়িতে মাঝেমধ্যে আসতেন। কয়েকদিন থেকে বাড়ি চলে যেতেন। অনেকে বলেন, ছোটোবেলা থেকে সপ্তককে তাঁরা দেখেছেন, এমন কোনও ঘটনায় সে জড়িত থাকতে পারে, সেটা তাঁরা ভাবতে পারছেন না
যাদবপুরকাণ্ড বুধবার আরও ছ'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে সপ্তকও রয়েছেন। এছাড়া জম্মুর বাসিন্দা মহম্মদ আরিফ, আসানসোলের আসিফ আফজল আনসারি, উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা অঙ্কন সরকার, দক্ষিণ ২৪ পরগনা কুলতলি থানা এলাকার বাসিন্দা অসিত সর্দার, মন্দিরবাজারের সুমন নস্করকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সৌরভ চৌধুরী, পড়ুয়া মনোতোষ ঘোষ এবং দীপশেখর দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই জনের নাম উঠে এসেছিল। বুধবার সপ্তক সহ ছজনকে আলিপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১২ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখা নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে তৎপর রাজ্যপাল, আলোচনা সুরক্ষা নিয়েও