
শেষ আপডেট: 12 August 2023 03:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাম জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন (Swapnadeep Kundu)। পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েও হেলায় ছেড়েছিলেন, যাদবপুরের মেধা তালিকায় নাম উঠেছে যে! বুকভরা আশা আর স্বপ্ন নিয়েই সুদূর বগুলা থেকে এসে পৌঁছেছিলেন কলকাতায়। অথচ কোনও স্বপ্নই আর পূরণ হল না (Jadavpur student death)। আইসিডিএস কর্মী মায়ের যাতে রোদে-জলে ঘুরে কাজ করতে কষ্ট কম হয়, তাই তাঁকে দেওয়ার জন্য একটু একটু করে টাকা জমিয়ে কিনেছিলেন একটা ছাতা। লাল-সাদা ফুলছাপ সেই উপহারটুকু নিজে হাতে তাঁকে দেওয়ার স্বপ্নটুকুও পূরণ হল না। দীপ নিভেছে তার আগেই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) যে হস্টেলে দুদিনের অতিথি ছিলেন স্বপ্নদীপ, সেখানের ঘরেই পড়ে রয়েছে সেই ছাতা।
প্রথম বর্ষের বাংলা বিভাগের পড়ুয়া স্বপ্নদীপের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে শরীরের বাঁ-দিকে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। কোমরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল, কিডনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যদিও মারধরের প্রমাণ মেলেনি। ইতিমধ্যেই র্যাগিং-এর অভিযোগে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে গোটা রাজ্য। তবে সেই তত্ত্ব বিশ্বাস করতে নারাজ নদিয়ার ওই ছাত্রের পরিবার। স্বপ্নদীপের বাবা ইতিমধ্যেই থানায় খুনের মামলা রুজু করেছেন, যার ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র সৌরভ চৌধুরীকে।
তাঁর 'গোপাল' যে নেই, সে কথা তো এখনও বিশ্বাসই করে উঠতে পারছেন না স্বপ্নদীপের মা আদর কুণ্ডু। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন কখনও, জ্ঞান ফিরলে স্বামী রামপ্রসাদ কুণ্ডুর মুখের দিকে সজল চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করছেন, কোলের ছেলে কবে কোলে ফিরবে!
এই প্রশ্নের কী উত্তর দেবেন রামপ্রসাদ! সদ্য সন্তানহারা বাবার যে শোকে পাথর হয়ে যাওয়ারও উপায় নেই। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় অপরাধী কারা, সেই 'নরপিশাচ', 'নরখাদক'দের খুঁজে বের করে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত শান্তি নেই তাঁর। দাদার মৃত্যুতে কার্যত বাকরুদ্ধ স্বপ্নদীপের ভাই রত্নদীপ। পিঠোপিঠি হওয়ার দুই ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো। একসঙ্গে খাওয়া-ঘুমানো-পড়তে বসা-হাসিঠাট্টা, সেই সব কিছুই এখন শুধুই স্মৃতি। মানতে পারছে না কেউই। মানতে পারছে না বগুলা।
স্বপ্নদীপ মৃত্যুরহস্য: ঘটনার দিন রাতে থানায় ফোন! জানিয়েছিলেন, 'কাউকে ঝাঁপ দিতে বলছে…'