
শেষ আপডেট: 12 August 2023 07:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর মৃত্যুর ঘটনায় (Jadavpur Student Death) ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। স্বপ্নদীপের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন পড়ুয়া সৌরভ চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নদিয়ার হাঁসখালি থেকে যাদবপুরের মেন হস্টেলে আসার তিনদিনের মধ্যে কীভাবে স্বপ্নদীপের এমন মর্মান্তিক পরিণতি হল, তা নিয়ে আন্দোলিত সমাজের একাংশ। সামনে আসছে ব়্যাগিং-এর তত্ত্ব।
বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলের এ-২ ব্লকের তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় নদিয়ার হাঁসখালির বাসিন্দা স্বপ্নদীপের। শুক্রবারই ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় সৌরভ সহ একাধিকজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্বপ্নদীপের বাবা। বিভিন্ন সূত্র থেকে পুলিশের কাছেও ক্রমেই জোরাল হচ্ছে র্যাগিং-এর তত্ত্ব। ইতিমধ্যে সোশ্যাল সাইটে সরব হয়েছে যাদবপুরের একাংশ পড়ুয়াও।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যবিভাগের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সায়ন সেনগুপ্ত যেমন লিখেছেন, স্বপ্নদীপের মৃত্যুর পরও ক্যাম্পাসের আলোচনায় উঠে এসেছে- ‘দু-দিন নিতে পারল না!?’, ‘দু-একদিনে কীই বা হয় তুই বল!’, ‘হ্যাঁ ভাই, দুদিনে আর কতটুকুই বা র্যাগিং করা যায়!’
স্বপ্নদীপের মৃত্যুর পর ফেসবুকে সরব হয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া অর্পণ মাঝি। লিখেছেন 'আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র। সমাজের প্রতিটি স্তরে ক্ষমতা প্রদর্শন আছে, কিন্তু যাদবপুর মেইন হস্টেলের কিছু দাদা'ও যে এই একই কাজ করবে তা আমার কল্পনার অতীত। আমি ভীত।' ভয়ে হস্টেল ছেড়ে দিয়েছেন অর্পণ। আর এক ছাত্রের কথায়, “হস্টেলে ঢোকার পর শুনতে হয়েছিল, যাদবপুরে থাকবি আর ব়্যাগিং নিতে পারবি না, তা কি করে হয়!”
সবমিলিয়ে ছাত্রদের মুখে মুখে ঘুরছে ব়্যাগিং-এর কথা। তাঁরা বলছেন, “জানি, স্বপ্নদীপ আর ফিরবে না। তবু চাই, নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। অভিযুক্তরা চিহ্নিত হোক, শাস্তি পাক। কিন্তু তারচেয়েও বেশি করে চাই, এই অমানবিক 'প্রথা' বন্ধ হোক।”
আরও পড়ুন: যাদবপুরের এই সৌরভকে মেলাতে পারছেন না গ্রামবাসীরা, স্বপ্ন ছিল WBCS অফিসার হওয়ার