
শেষ আপডেট: 6 April 2023 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল (Governor) সিভি আনন্দ বোস গত মঙ্গলবার হুগলির রিষড়ায় (Rishra) গিয়েছিলেন। দার্জিলিং সফর কাটছাঁট করে কলকাতায় ফিরে বিমানবন্দর থেকে সোজা হুগলির ওই শিল্পাঞ্চলে পৌঁছে যান রাজ্যপাল। তার আগের রাত এবং রামনবমীর দিন এই রিষড়া উত্তপ্ত হয়েছিল। সাড়ে তিনঘণ্টা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল লোকাল ট্রেন। রাজ্যপাল গিয়ে কিছু স্থানীয়ের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। কিন্তু রিষড়ার জামা মসজিদের ইমাম (Imam) মৌলানা মহম্মদ জাকির নুরি মনে করেন, রাজ্যপাল আক্রান্ত সব এলাকায় গিয়ে সন্ত্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বললে ভাল করতেন।
গোলমালের সূত্রপাত হয়েছিল জিটি রোডের উপর অবস্থিত রিষড়া জামা মসজিদের সামনে। সেটা ২ এপ্রিল প্রায় সন্ধেবেলা। নুরি এদিন দ্য ওয়াল-কে বলেন, ‘উনি (পড়ুন রাজ্যপাল) ব্যস্ত মানুষ। উনি যখন সফর কাটছাঁট করে এলেনই, তখন সন্ত্রস্ত মানুষজনের সঙ্গে কথা বললে তাঁদের মনে সাহস ফিরত, ভরসা জন্মাতো।’
রাম নবমীর মিছিল ঘিরে গোলমালের কারণে রিষড়ায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি আছে। ফলে জনজীবন স্বাভাবিক হয়নি এখনও। বের হয়নি হনুমান জয়ন্তীর মিছিলও।
রাজ্যপাল বোস বৃহস্পতিবার কলকাতায় লেক টাউনের হনুমান মন্দিরে পুজো দেন। পরে একবালপুর, মোমিনপুর ও বড়বাজারের পোস্তা এলাকায় যান রাজ্যপাল। কথা বলেন স্থানীয়দের সঙ্গে। ইকবালপুরে গত বছর অক্টোবরে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছিল।
সেখানে সাংবাদিকদের রাজ্যপাল বোস বলেন, 'দেখুন, সাধারণ মানুষ আমাকে রাজ্যপাল করেছে। তাই আমাকে মানুষের পাশে থাকতে হবে। আমি মানুষের পাশে থাকতে পেরে আনন্দিত হই। আমি তাদেরই একজন।'
হনুমান জয়ন্তীতে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্যপাল বলেন, 'মানুষ সহযোগিতা করছে। আমি মনে করি আজ খুব আনন্দের দিন হবে। বাংলা শান্তি ও সম্প্রীতির ধারা স্থাপন করছে।'
রিষড়ায় সেদিন সন্ধ্যাবাজার, হেস্টিংস ও ওয়েলিংটন জুট মিল এলাকায় গোলমাল হয়। জামা মসজিদের ইমাম বলেন, ‘আমি ২৭ বছর এখানে ইমামের দায়িত্ব পালন করছি। কোনও দিন রাম নবমী বা অন্য কোনও উৎসবে এখানে গোলমালের নজির নেই। এবার কেন হল, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সেটা জানতে হবে।’ ইমাম বলেন, সেদিন মিছিলের লোকজনের জন্য জল, সরবতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। শান্ত পরিবেশ কীভাবে অশান্ত হয়ে উঠল সেটাই প্রশ্ন।
এলাকার মানুষের জীবনের মান, অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও ব্যাখ্যা করেছেন ইমাম নুরি। তাঁর কথায়, ‘এই এলাকায় গরিব মানুষের বাস বেশি। দিনে চার-পাঁচশো টাকা রোজগার করতে হিমশিম খায় মানুষ। এখন যত তাড়াতাড়ি অবস্থা স্বাভাবিক হয় ততই মঙ্গল।’ তাঁর কথায়, শান্তি বজায় রাখতে সব পক্ষকে সমান কর্তব্য পালন করতে হবে। ইমাম মনে করেন, রাজ্যপাল সেদিন আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বললে ভাল করতেন।
রাজ্যপাল বোস সেদিন রিষড়ার রেল গেট চত্বরে যান, আগের রাতে যেখানে গোলমাল হয়েছিল। তিনি রিষড়া স্টেশনের আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা বলেন। স্থানীয় কিছু মানুষের সঙ্গে তিনি কথা বলেন সেদিন।
ইমাম নুরি বোঝাতে চেয়েছেন, সংঘাতে কোনও সাধারণ মানুষের লাভ নেই। বরং ক্ষতি। কারণ দিন আনি, দিন খাই এলাকায় সব বন্ধ থাকলে ডাল-রুটিটাও জুটবে না!
মহিলা কোটা ছাড়াই নাগাল্যান্ডের স্থানীয় নির্বাচনে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের