
শেষ আপডেট: 11 July 2023 05:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রামকৃষ্ণ মিশন ও ইসকনের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন নয় (Iskcon VS RKM)। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সম্মেলনে, ইসকনের বিভিন্ন সাধু প্রায়ই তোপ দাগেন রামকৃষ্ণ মিশনকে। কখনও তাঁদের নিশানায় থাকেন রামকৃষ্ণদেব আবার কখনও সেই নিশানার তির ঘুরে যায় স্বামী বিবেকানন্দের দিকে। এবার নিজেদের মতামত জাহির করতে গিয়ে রামকৃষ্ণদেব ও বিবেকানন্দর দর্শনকে যেভাবে আক্রমণ করলেন ইসকনের নবীন সাধু অমোঘ লীলা (Amogh Lila) , তা এককথায় নজিরবিহীন।
ভক্তদের উদ্দেশে হিন্দু ধর্মের মাহাত্ম্য ও তাতে ইসকনের ভূমিকা বোঝাতে গিয়ে সরাসরি রামকৃষ্ণ ও বিবেকানন্দের দর্শনকেই আক্রমণ করে বসলেন তিনি! আর তা করতে গিয়ে কখন যে শালীনতার লক্ষ্মণরেখা পার করে ফেলেছেন তাও হয়তো বুঝতেই পারেননি তিনি।
রামকৃষ্ণের 'যত মত তত পথ' বাণীকে উদ্ধৃত করে এমন ব্যাখ্যা দিয়ে বসলেন যা রীতিমতো হাস্যকর বলেই মনে করছেন অনেকেই। রামকৃষ্ণ তাঁর এই বাণীতে মানুষকে বোঝাতে চেয়েছিলেন ঈশ্বরকে অনুভবের বহু পথ। এক এক মতের মানুষ এক এক পথ ধরে এগোতে পারেন। কিন্তু শেষে সেই একই অভীষ্টে পৌঁছবেন তাঁরা। পরমহংসদেবের সেই দর্শনের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অমোঘ লীলা বলেন, 'যে রাস্তা দিয়ে ইচ্ছে যাওয়ার বেরিয়ে পড়, গন্তব্য একই হবে। সেটা কখনই হয় না। আমি যদি মায়াপুর যেতে চাই, তবে ডান-বাম-আগে-পিছে যে কোনও রাস্তা ধরে যাওয়া সম্ভব নয়। একটি নির্দিষ্ট রাস্তা ধরতে হবে।'
শুধু রামকৃষ্ণ নন, বিবেকানন্দর নীতিকেও সমালোচনা করেছেন অমোঘ লীলা। তিনি বলেন যে, বিবেকানন্দকে তিনি শ্রদ্ধা করেন ঠিকই, কিন্তু সব মানতে পারেন না। তিনি কখনই বিবেকানন্দকে সিদ্ধ পুরুষ মনে করেন না। অমোঘ লীলার ব্যাখ্যা, “কোনও সিদ্ধপুরুষ কখনও কোনও পশু মেরে খাবেন না।” তিনি বলেন, “বিবেকানন্দ যদি মাছ খান তবে কীভাবে তিনি সিদ্ধপুরুষ হবেন?”
জাতির মেরুদণ্ড গঠনে খেলাধূলাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন বিবেকানন্দ। মনে করতেন খেলাধূলার মাধ্যমে একটা মানুষের শরীর ও মনের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব। তাই গীতাপাঠ না করলেও চলবে, কিন্তু ফুটবলটা যেন খেলে যুবসমাজ। কিন্তু ইসকনের সাধুর বিবেকানন্দের এই চিন্তাচেতনাকেও দেগে দিলেন। বললেন, “খেলাধূলা করাই মনের বিকাশের জন্য শেষ কথা হতে পারে না। গীতা পাঠ করাটা অত্যন্ত জরুরি।”
ইসকনের সাধু অমোঘ লীলার এহেন বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। একের পর এক পোস্টে অমোঘ লীলার 'বাণী' নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ বলেছেন, হিন্দু ধর্মের প্রসারে বিবেকানন্দের ভূমিকাকে খর্ব করতে গিয়ে বেনজির আক্রমণ করে ফেলেছেন তিনি। যা কখনই কাম্য নয়।
মায়াপুরে ইসকন মন্দির তৈরি করার জন্য অমোঘ লীলা বাংলার সরকারের থেকে সাহায্য পেয়েছে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে কেউ কেউ অমোঘ লীলার নিন্দা করেছেন। বাঙালি হিন্দুর ভাবাবেগ ও তাদের 'আইকন' রামকৃষ্ণ এবং বিবেকানন্দকে আঘাত করে ঠিক করেননি বলেও মত অনেকের।
তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অমোঘ লীলার ওই ভিডিও টুইট করে লেখেন, 'ইস্কন আমাদের প্রিয়। কিন্তু তার এই বাচালের অসভ্যতা বন্ধ করুন তাঁরা। রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দকে অপমান করে এসব কথা বললে বরদাস্ত করা হবে না।' পাশাপাশি, অমোঘ লীলার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন কুণাল।
ব্রিজভূষণ যৌন নিগ্রহে দায়ী, বিচারে শাস্তি হওয়া দরকার, চার্জশিটে লিখল দিল্লি পুলিশ