
শেষ আপডেট: 24 July 2022 17:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বেকার হয়েছেন বাবা। তবে সংসারে টানাটানি যাই থাক, পড়াশোনায় কখনও তার আঁচ পড়েনি। তাই আইএসসি-র রেজাল্টে (ISC Result) চমকে দিল ডানকুনির মেহেলি (Meheli Ghosh)। সারা দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করল সে। তাঁর রেজাল্ট দেখে ধন্য ধন্য করছেন সকলে।
ডানকুনির (Dankuni) ভাদুয়ার বাসিন্দা অজিত ঘোষ ও দীপা ঘোষ। তাঁদের একমাত্র মেয়ে মেহেলি। শ্রীরামপুর হলিহোম স্কুলের ছাত্রী সে। আইএসসি-তে তার প্রাপ্ত নম্বর ৩৯৭। সারা দেশের মধ্যে যা তৃতীয়। মেহেলির এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার বাবা-মা ও আত্মীয়রা।
জানা গেছে, ডানকুনির একটি ব্যাটারি কারখানায় কাজ করতেন মেহেলির বাবা অজিত। কিন্তু আগুন লেগে সেই কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকেই বেকার অজিত। অল্প কিছু চাষের জমি আছে তাঁর। এছাড়া মাঝেমাঝে গোডাউনে মজদুরির কাজও করে থাকেন। মেহেলির মাসি মালা ঘোষাল এবং দাদু ভূপাল ঘোষ তাঁদের সাহায্য করেন। কখনও মেহেলির পড়াশোনায় দারিদ্রের আঁচ তাঁরা লাগতে দেননি।
বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায় মেহেলি। মেডিক্যালের পরীক্ষায় পাশ করে পড়তে চায় সরকারি কোনও কলেজে। পড়াশোনা ছাড়াও বাগান পরিচর্যা করতে ভালবাসে মেহেলি। ছবি আঁকার শখও ছিল, তবে পড়ার চাপে আর তা হয়ে ওঠে না।
ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেলে তার খরচ বহন করবেন কীভাবে তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তায় আছে মেহেলির পরিবার। দারিদ্রের মাঝে এই প্রতিভাকে কোনওভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। সাফল্যের আনন্দের মাঝেও দুশ্চিন্তা তাই কাটছে না।
আরও পড়ুন: এভাবেও সেরা হওয়া যায়! পাবজি খেলে আইএসসি-তে তৃতীয় জলপাইগুড়ির স্বয়ম