দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারদ কাণ্ডে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার সিবিআইয়ের জেরার মুখে পুলিশ কর্তা এসএমএইচ মির্জা। সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ নিজাম প্যালেসের সিবিআই দফতরে যান অবিভক্ত বর্ধমানের প্রাক্তন পুলিশ সুপার। গত ৬ জুন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সামনে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। ফের এ দিন তাঁকে নিজাম প্যালেসে ঢুকতে দেখা যায় একদা মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ এই অফিসারকে।
সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে জেরায় টাকা নেওয়ার কথা কবুল করেছেন মির্জা। এবং তিনি নাকি বলেছেন, একটি অনাথ আশ্রমের জন্য অনুদান হিসেবে ওই টাকা তিনি নিয়েছিলেন।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই প্রকাশ্যে আসে নারদ ভিডিও। সংস্থার কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েলের এই স্টিং অপারেশন নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয় রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে। মামলা হয় আদালতে। হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তে নামে সিবিআই। নারদ নিউজের প্রধান ম্যাথু স্যামুয়েল দাবি করেন, টাকার বিনিময়ে ‘রাজনৈতিক রক্ষাকবচ’ ও ‘সুবিধা’ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও মন্ত্রীরা। অভিযোগ, ওই টাকার বিনিময়ে ম্যাথু স্যামুয়েলের কাল্পনিক সংস্থা ‘ইমপেক্স’কে বেআইনিভাবে সুবিধা পায়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তাঁরা।
অন্যদিকে, নারদ কাণ্ডেই ইডি ডেকে পাঠিয়েছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে চিকুকে। তলব করা হয়েছে রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষামন্ত্রী তথা মানিকতলার বিধায়ক সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পাণ্ডেকেও। ১৭ জুনের মধ্যে তাঁদের দেখা করতে বলেছে ইডি। রত্না দেবী জানিয়েছেন, “দু’একটি কাগজ দেওয়া বাকি আছে। ভোটের কারণে ব্যাস্ত ছিলাম। তাই যেতে পারিনি। এর মধ্যেই গিয়ে দিয়ে আসব।” শ্রেয়া আপাতত দেশের বাইরে রয়েছেন।