দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও অথৈ জলে ইন্টার্ন শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি।
সোমবার বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্রের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়িত না-ও হতে পারে। ইন্টার্ন শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতে এখনও আলোচনার স্তরে। আদৌ হবে কি না, সে বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, তখন ইন্টার্ন শিক্ষক নিয়োগের চিন্তা-ভাবনা এসেছিল, কারণ বিভিন্ন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা আদালতে গিয়ে পুরো বিষয়টি দেরি করিয়ে দিচ্ছিলেন। তাই সেই মুহূর্তে স্কুলগুলিতে শিক্ষকের চাহিদা মেটাতে ইন্টার্ন নিয়োগের ভাবনা-চিন্তা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর।
পার্থ জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছা ছিল, যাঁরা শিক্ষক হিসেবে কাজে যোগ দেবেন তাঁরা প্রশিক্ষণ পাবেন। "আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করে দেখছি। এই প্রকল্প এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, খুব তাড়াতাড়ি হচ্ছে না বলেই আমার মনে হয়।"-- বলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
পার্থর অভিযোগ, নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে সকলেই আদালতে চলে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, সেখানে বিভিন্ন দলের রাজনীতির লোকজনও রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা আশা করছি নতুন করে কেউ কোনও সমস্যা তৈরি না করলে জুলাই মাসের মধ্যেই সব শূন্যপদ ভর্তি করে ফেলা সম্ভব হবে।" পার্থ আরও দাবি করেন, গ্রেড পে নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা মুখ্যমন্ত্রী নিজে সমাধান করছেন।
পাশাপাশি পরিসংখ্যানও দেন পার্থ। জানান, ২০১৪-১৫ সালে প্রাথমিক শিক্ষায় ১৬ হাজার ৬৯৬ জনকে নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। মাধ্যমিক শিক্ষায় এই সংখ্যাটা ২৯ হাজার ৯৯৭। ২০১৭-১৮ সালে প্রাথমিক নিয়োগের সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ হাজার ৬২১। ২০১৮-১৯ সালেও নিয়েগ চলছে। এখনও পর্যন্ত ১১ হাজার ৪৭ জন কাজ পেয়েছে।
পার্থর দাবি, আগের সরকার যাকে পেরেছে তাকে ঢুকিয়েছে এই শিক্ষকতায়। সংগঠিত ও অসংগঠিত নানা ক্ষেত্রে নিয়োগ করিয়েছে বেআইনি উপায়ে। নতুন সরকার এসে তো নতুন কর্মসংস্থান করবে না! আগের দফায় যারা জঞ্জাল, সেগুলোকে সব কাজ করাতে হবে।
বিধানসভায় বিরোধী নেতা সুজন চক্রবর্তী পাল্টা দাবি করেন, "আদালতের জন্য শিক্ষক নিয়োগ আটকে রয়েছে, এটা আমি বিশ্বাস করি না।" তাঁর প্রশ্ন, যদি টেট ঠিকমতো হয়ে থাকে, তা হলে হঠাৎ কেন আদালতে যেতে হচ্ছে চাকরিপ্রার্থীদের? সরকার কেন প্যানেল প্রকাশ করছেন না? এত বেনিয়ম কেন নিয়োগে?
এই প্রশ্নের উত্তরে পার্থর যুক্তি, "বেনিয়ম হয়েছে কি হয়নি, সেটা দেখার দায়িত্ব একটি সংস্থার। যদি কেউ আমাকে কিছু অভিযোগ পাঠায়, সেটা আমি সেই সংস্থাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। ওরাই দেখছে, যদি বেনিয়ম হয়ে থাকে।"
পার্থর আরও দাবি, সাম্প্রতিক শিক্ষক-নিয়োগ প্রক্রিয়া সরলীকরণ করা হচ্ছে। "পুরোনো দিনের যে সব নিয়ম হয়েছে নিয়োগের, সেই নিয়মগুলি দীর্ঘ। সে জন্য সহজে শিক্ষক নিয়োগ কার্যকর করা যায়নি। তার ওপরে আগের সরকারের এত লোক ঢুকে আছে। দেখছি, কী করা যায়।"