
শেষ আপডেট: 6 August 2020 18:30
চিনের গবেষকরা বলছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাস এপিথেলিয়াল কোষকে এমনভাবে সংক্রামিত করছে যে গোটা ফুসফুসই আক্রান্ত হচ্ছে। তার উপর ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধতে দেখা যাচ্ছে। ফলে অক্সিজেন আর ফুসফুসে ঢুকতে পারছে না। তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হচ্ছে রোগীর। করোনা সারানোর পরেও শ্বাসের সমস্যা, শুকনো কাশি এমনকি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে রোগী। রক্ত জমাট বেঁধে পালমোনারি থ্রম্বোসিসও দেখা গেছে অনেকের। প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশনও ফুসফুস অকেজো হওয়ার আরও একটা কারণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সাইটোকাইন প্রোটিনের ক্ষরণ বেড়ে যাচ্ছে, ফলে ভারসাম্য টলে যাচ্ছে। এই প্রোটিনের মাত্রা বেশি হলেই প্রদাহ শুরু হয়, যার কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। হয় ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দিতে হয় রোগীকে না হলে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখতে হয়।
পেং ঝিয়ং-এর টিমের দাবি, করোনা সারিয়েছেন এমন রোগীরা ৬ মিনিটে ৪০০ মিটারও হেঁটে যেতে পারছেন না। শ্বাসের সমস্যা দেখা দিচ্ছে অনেকের। অথচ সুস্থ ব্যক্তিরা ওই সময়ের মধ্যেই প্রায় ৫০০ মিটার পথ হাঁটতে পারছেন। পরীক্ষায় আরও দেখা গেছে, ফুসফুস সবচেয়ে বেশি দুর্বল হচ্ছে ৫০ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের। বেজিং ইউনিভার্সিটি অব চাইনিজ মেডিসিনের গবেষক লিয়াং তেংজিয়াও বলেছেন, ৫৫-৬০ বছর বয়সীরা করোনা সারিয়ে উঠলেও তাঁদের ফুসফুস আর আগের মতো কাজ করতে পারছে না। ফলে বেশিরভাগকেই অক্সিজেন সাপোর্ট নিয়ে থাকতে হচ্ছে।
গত জুন মাস থেকেই বেজিং-এ ফের করোনার সংক্রমণ প্রবল হয়েছে। বেজিং প্রশাসনের তরফেই জানানো হয়েছে করোনার ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ ধাক্কা দিয়েছে কয়েকটি প্রদেশে। গত বৃহস্পতিবারই নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩৭ জনের শরীরে। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন উপসর্গহীন।
উহানে টানা ৭৮ দিন লকডাউনের পর এপ্রিলের মাঝামাঝি গোটা চিনকেই করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। লকডাউনও তুলে নেওয়া হয়েছিল। এরপরেই দেখা যায়, রাজধানী শহর বেজিংয়ে নতুন করে সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করেছে। শহরের জিনফাদি বাজার থেকে এই নতুন সংক্রমণ ছড়িয়েছে খবর রটে একাধিক সংবাদমাধ্যমে। চিনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রধান উ জুনইউ বলেন, জিনফাদি সুপার মার্কেটের কাঁচা মাছ-মাংসের বাজার থেকেই নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ১০০টি নতুন সংক্রমণের যোগসূত্র রয়েছে ওই বাজারের সঙ্গেই। ফ্রোজেন মাছ-মাংস বা তার প্যাকেজিংয়ের উপর ভাইরাস অন্তত তিন মাস বেঁচে থাকতে পারে। তাই অনুমান করা হচ্ছে ফ্রোজেন সি-ফুড থেকে নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়েছে।