চরম প্রত্যাঘাত ইরানের, মার্কিন সেনাঘাঁটির পর বাগদাদের গ্রিন জোনে রকেট হামলা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবারের মধ্যরাত। ইরাকের আলা আসাদ ও ইরবিলে মার্কিন সেনা ও যৌথবাহিনীর দু’টি সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে পর পর উড়ে আসে মিসাইল। ইরাকি সেনার দাবি ছিল মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে মোট ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। আমেরিকা এই হামলার
শেষ আপডেট: 8 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবারের মধ্যরাত। ইরাকের আলা আসাদ ও ইরবিলে মার্কিন সেনা ও যৌথবাহিনীর দু’টি সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে পর পর উড়ে আসে মিসাইল। ইরাকি সেনার দাবি ছিল মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে মোট ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। আমেরিকা এই হামলার ধাক্কা সামলে ওঠার মাঝেই ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। বুধবারের মধ্যরাত। বাগদাদের ‘গ্রিন জোন’-এ কঠোর আঘাত হানল দু’টি রকেট। বাগদাদের ওই ভিআইপি জোনেই রয়েছে মার্কিন দূতাবাস-সহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস। হতাহতের খবর এখনও অজানা।
বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে মার্কিন ড্রোন হানায় ছিন্নভিন্ন হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক নেতা তথা রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের কুদস কম্যান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানি। তার পর থেকেই হুমকি-পাল্টা হুমকিতে যুদ্ধং দেহি মনোভাব দুই দেশেরই। শিয়া অধ্যুষিত কোম শহরের প্রাচীন ও আতিহ্যবাহী জামকরন মসজিদের উপর যুদ্ধের নিশানবাহী লাল পতাকা উড়তে দেখা গিয়েছিল। যার থেকে এটা স্পষ্টই ছিল ইরান কঠোর প্রত্যাঘাত হানবেই। হয়েছেও ঠিক তাই। জেনারেল কাসেম সোলেমানি খুনের ঠিক চারদিনের মাথায় ইরাকের মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। স্থানীয় সময় রাত ১টা বেজে ২০ মিনিটে প্রথম হামলাটি হয়, দ্বিতীয় হামলা হয় তার ঠিক দু’ঘণ্টা পরে। ইরান দাবি করে, এই হামলায় ৮০ জন ‘মার্কিন জঙ্গি’খতম হয়েছে। যদিও আমেরিকার তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, এই হামলায় একজন মার্কিন সেনারও মৃত্যু হয়নি। বরং পরিস্থিতি স্বাভাবিকই আছে।

বুধবারের হামলার পরে অনেকেই মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অল ইজ ওয়েল’মনোভাবকে ফের ধাক্কা দিয়েছে ইরান। বাগদাদের গ্রিন জোনে রয়েছে একাধিক বিদেশি দূতাবাস, যার মধ্যে মার্কিন দূতাবাসও রয়েছে। এই দূতাবাসই একসময় ঘিরে রেখে তাণ্ডব চালিয়েছিল ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীরা। রকেট হামলা নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি পেন্টাগন।

কাসেম হত্যার বদলা নিতে এলে ফল ভাল হবে না বলে দিন কয়েক আগেই তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের তরফে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তাঁদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। তবে গোটা বিশ্বের মধ্যে মার্কিন বাহিনীই যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সুসজ্জিত ফের একবার তা মনে করিয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সোলেমানি হত্যা নিয়ে উত্তেজনার আবহে ইরানের তরফে এমন পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত ছিল, তাই ইরাকে সমস্ত সেনাঘাঁটিতে আগে থেকেই হাই অ্যালার্ট জারি ছিল বলে জানিয়েছিলেন পেন্টাগনের এক মুখপাত্র। তবে বাগদাদের গ্রিন জোনে রকেট হামলা নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি পেন্টাগন।