দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিদিনই নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে সুশান্ত-মামলায়। বাড়ছে বিভ্রান্তিও। মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে সুশান্তের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর যোগাযোগ ছিল, এমনটাই শোনা গেল এবার। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ড্রাগ মাফিয়ারাও জড়িয়ে আছে সুশান্ত মৃত্যুতে?
পরপর দুদিন ম্যারাথন জেরা করা হয় সুশান্তের বান্ধবী রিয়াকে। সিবিআই, ইডি'র পাশাপাশি তদন্তে যোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নার্কোটিক্স ব্যুরোর লোকজনও। রিয়া চক্রবর্তী একটি আন্তর্জাতিক ড্রাগ মাফিয়াচক্রের অংশ এবং দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে, সংবাদমাধ্যমে এমন অভিযোগ উঠে এসেছে বারবার। রিয়ার পুরোনো পাবলিক চ্যাট ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে এমডিএমএ এবং গাঁজা সম্পর্কে একাধিকবার নানারকম প্রশ্ন করেছেন।
এটা অবশ্য নতুন কিছু নয় ৷ এ দেশে যেকোনো বড় ধরনের অপরাধ ঘটলেই একবার না একবার দাউদের নাম উঠবেই। প্রথমে ড্রাগ, তারপর দুবাই, আর সবশেষে স্বয়ং ডাউদ। এই তিন 'ডি'ই না কি ভাবিয়ে তুলেছে তদন্তকারীদের! গত ক'দিন ধরে এমনটাই দাবি করে আসছে কিছু সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। পাশাপাশি এও বলা হচ্ছে, সুশান্ত-বান্ধবী রিয়াই ছিল সেই ড্রাগ পাচার চক্রের কিং-পিন।
রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এর আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্ল্যাক ম্যাজিক অনুশীলনের অভিযোগ করা হয়েছিল। আর এবার, প্রকাশ্যে এল রিয়ার দুবছর আগের কিছু পুরোনো হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট। ২০১৭ সালে, যখন সুশান্ত-রিয়ার সম্পর্কও গড়ে ওঠেনি, তখন থেকেই না কি নায়কের সঙ্গে মাদক- সংক্রান্ত যোগাযোগ ছিল রিয়ার। পুরোনো চ্যাটের কিছু অংশ পড়ে তেমনটাই সন্দেহ করেছেন তদন্তকারী অফিসারেরা।
শোনা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক ড্রাগ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন রিয়া চক্রবর্তী। তিনি নিজেও নিয়মিত ড্রাগ নিতেন। মনে করা হচ্ছে, সুশান্ত সিং রাজপুতকেও নিয়মিত ড্রাগ দেওয়া হত। বিজনেস ম্যানেজার শ্রুতি মোদি এবং রিয়া চক্রবর্তীর একটি হোয়্যাটসঅ্যাপ চ্যাট পেয়েছেন তদন্তকারী অফিসারেরা, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, ড্রাগের নেশা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিলেন সুশান্ত।
বলিউডের তরুণ প্রজন্মের কাছে মারিজুয়ানা, এলএসডি বা এমডিএমএ নতুন কিছু নয়৷ গাঁজা খাওয়া তো বেদের আমল থেকেই জনপ্রিয়। অথচ এখনও এ দেশে মাদকাসক্তদের অপরাধী হিসাবেই দেখা হয়।
মিসোজিনি নিয়েও অনেক কথা শোনা যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। জন সচেতনতা কি সত্যিই বেড়েছে তাতে? এ দেশে এখনও বাস্তবটা ঠিক কেমন, দেখিয়ে দিলো সুশান্ত মামলা। ন্যাশনাল টেলিভিশনে বসে প্রতিদিন মহিলারাই একের পর এক নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে চলেছেন রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। দোষ প্রমাণ হওয়ার আগেই সমাজের চোখে অপরাধী হিসাবে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে। প্রতিদিন নিউজরুমগুলোতে চলছে তারই শুনানি।
কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট পড়ে রিয়া চক্রবর্তীর মতো একজন কমবয়সী উঠতি অভিনেতাকে এভাবে বিরাট মাপের ষড়যন্ত্রী বানিয়ে ফেলাটাও আসলে একধরণের বোকামি। এর ফলে আগামীতে আসল তদন্ত প্রভাবিতও হতে পারে - এমনটাই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ- মহলের।
কাকে দোষ দেব আমরা? যেসব লোকেরা উদ্ভট আর ফাঁপানো জিনিসকে সত্যি বলে ধরে নেয়, তাদের? না, সেই সব সাংবাদিকদের, যারা কোনোকিছু যাচাই না করেই নিউজরুমে বসে অপরাধ প্রমাণের আগে জনমানসে কাউকে অপরাধী সাজিয়ে তোলে! সুশান্ত মামলার প্রেক্ষিতে জরুরি হয়ে উঠেছে এসব প্রশ্নও।