দ্য ওয়াল ব্যুরো : সন্ত্রাসবাদ নয়, চাকরি। দেশের যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানই এখন প্রধান ইস্যু। কিছুদিন আগে এমনই মন্তব্য করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তাঁকে পালটা কটাক্ষ করলেন, সন্ত্রাসবাদ যদি কোনও ইস্যুই না হবে আপনি এতজন দেহরক্ষী নিয়ে ঘোরেন কেন? এসপিজি প্রোটেকশন ছেড়ে দিন।
সুষমার কথায়, রাহুল বলতে চান, চাকরিই এখন প্রধান ইস্যু। সন্ত্রাসবাদ নয়। আমি রাহুল গান্ধীজিকে বলতে চাই, দেশে যদি সন্ত্রাসবাদের বিপদ নাই থাকে, তাহলে আপনি এসপিজির সিকিউরিটি নিয়ে ঘোরেন কেন? প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর থেকে আপনাদের পুরো পরিবার এসপিজি নিরাপত্তা পেয়ে থাকে। আপনি যদি মনে করেন, সন্ত্রাসবাদ কোনও ইস্যুই নয়, তাহলে আমি আপনাকে বলব, সরকারকে চিঠি লিখে সেকথা জানান। আপনি বলুন, দেশে জঙ্গিরা আর নেই। আপনিও আর কাউকে ভয় পান না।
হায়দরাবাদে এক নির্বাচনী জনসভায় সুষমা এদিন পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলা এবং পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতের বায়ুসেনার হামলার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বাস করেন না। তাঁরা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্বাস করেন।
সুষমার দাবি, বালাকোটে বিমান হানার ঘটনা সারা দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ওই ঘটনার পরে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান আমাকে ফোন করেছিলেন। সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত যে কড়া অবস্থান নিয়েছে, তার প্রশংসা করেছিলেন। কিন্তু আমাদের দেশের বিরোধীরা জইশ ই মহম্মদের ঘাঁটিতে বোমা ফেলার জন্য সরকারকে কোনও কৃতিত্ব দিতে নারাজ।
ভুতপূর্ব ইউপিএ সরকারের সমালোচনা করে সুষমা বলেন, ২০০৮ সালে মুম্বইতে জঙ্গি হানায় ১৬৬ জন মারা গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ৪০ জন বিদেশী। তখনই সরকারের উচিত ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া।
বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, এনডিএ সরকার তিনটি ইস্যু নিয়ে ভোটে লড়ছে। দেশের প্রতিরক্ষা, উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি। তাঁর দাবি, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ১ লক্ষ ১৬ হাজার মানুষকে যুক্ত করা গিয়েছে। আগে দেশে ৭৭ টি পাসপোর্ট সেন্টার ছিল। এখন বেড়ে হয়েছে ৫০৫ টি। আগে তেলঙ্গানায় পাসপোর্ট অফিস ছিল চারটি। এখন তার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯।
শুক্রবার রাহুল মহারাষ্ট্রের চন্দ্রপুরে এক সভায় মন্তব্য করেন, বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীকে জুতো মেরে তাড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার তার জবাবে সুষমা বলেন, রাহুলজি, আডবাণীজি আমাদের পিতার মতো। আপনার কথা আমরা গভীর দুঃখ পেয়েছি। দয়া করে ভাষণ দেওয়ার সময় ভদ্রতার সীমা অতিক্রম করে যাবেন না।